nature beauty

header ads

দোয়ায় উসিলা গ্রহণ করা

দোয়া করার সময় আমাদের নবী সা. অথবা অন্য যে-কোনো নবী বা কোনো বুযুর্গ ও নেককার ব্যক্তির উসিলা দিয়ে দোয়া করা যায়। চাই সে জীবিত হোক বা মৃত। 
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ عَمِّهِ عُثْمَانَ بْنِ حُنَيْفٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَخْتَلِفُ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي حَاجَتِهِ وَكَانَ عُثْمَانُ لَا يَلْتَفِتُ إِلَيْهِ وَلَا يَنْظُرُ فِي حَاجَتِهِ، فَلَقِيَ ابْنَ حُنَيْفٍ فَشَكَا ذَلِكَ إِلَيْهِ، فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ بْنُ حُنَيْفٍ: ائْتِ الْمِيضَأَةَ فَتَوَضَّأْ، ثُمَّ ائْتِ الْمَسْجِدَ، فَصَلِّ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ وَقُلِ: " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنَا نَبِيِّ الرَّحْمَةِ
৫৪. হযরত উসমান ইবনে হুনাইফ রা. হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি হযরত উসমান বিন আফফান রা. এর কাছে একটি জরুরি কাজে আসা-যাওয়া করত। হযরত উসমান রা. [ব্যস্ততার কারণে] না তার দিকে তাকাতেন, না তার প্রয়োজন পূরণ করতেন। সে লোক হযরত উসমান বিন হুনাইফ রা. এর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করল। তখন তিনি বললেন, তুমি অজু করার স্থানে গিয়ে অজু করো। তারপর মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামায পড়। তারপর বল, হে আল্লাহ! তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। রহমতের নবী মুহাম্মদ সা. এর উসিলায় তোমার দিকে মনোনিবেশ করছি। (আল মুজামুস সগীর, হাদিস নং-৫০৮, আল মুজামুল কাবীর, হাদিস নং-৮৩১১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস নং-১০১৮)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، كَانَ إِذَا قَحَطُوا اسْتَسْقَى بِالعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِبِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنَا فَتَسْقِينَا، وَإِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّنَا فَاسْقِنَا، قَالَ: فَيُسْقَوْنَ
৫৫. হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত, দুর্ভিক্ষের সময় হযরত উমর রা. আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের উসিলা দিয়ে দোয়া করতেন এভাবে : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমরা আমাদের নবী রাসুল সা. এর মাধ্যমে আপনার কাছে উসিলা করতাম, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করতেন, এখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নবীজীর চাচাকে উসিলা করছি, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। হযরত আনাস রা. বলেন, এরপর বৃষ্টি হতো। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫১১।)
ব্যাখ্যা : এই হাদিস জীবিত ব্যক্তির উসিলার সুস্পষ্ট প্রমাণ। এই হাদিসে হযরত উমর রা. এর দোয়াটি ব্যক্তির মাধ্যমে উসিলা প্রমাণ করছে। আর হযরত উমর রা. যখন হযরত আব্বাসকে উসিলার দোয়া করতে বলছেন, তখন এটি নেককার লোকের কাছে দোয়ার প্রমাণ। মূল কথা হলো, হযরত উমর রা. এই দোয়াটিতে স্পষ্ট উসিলা রয়েছে। আমাদের কাছে হযরত উমর রা. এর নিজের এই দোয়া যেমন উসিলার প্রমাণ, একইভাবে হযরত আব্বাসকে দোয়া করার জন্য যখন তিনি অনুরোধ করেছেন, সেটাও আরেক প্রকার উসিলার প্রমাণ। হযরত উমর রা. এর নিজের দোয়াটি লক্ষ্য করুন,
اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنَا فَتَسْقِينَا، وَإِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّنَا فَاسْقِنَا
হে আল্লাহ, নিশ্চয় আমরা আমাদের নবী রাসুল স. এর মাধ্যমে আপনার কাছে উসিলা করতাম, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করতেন, এখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নবীজীর চাচাকে উসিলা করছি, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন।
হযরত উমর রা. এখানে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেছেন। এই দোয়ার মধ্যে হযরত আব্বাসকে উসিলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হযরত উমর রা. এর দোয়াটি ব্যক্তির মাধ্যমে উসিলার প্রমাণ এবং হযরত আব্বাসকে দোয়া করতে বলাটা কোনো নেককার ব্যক্তির মাধ্যমে উসিলার প্রমাণ। এখানে দু’প্রকার উসিলা এক সাথে হয়েছে। একে এক প্রকার বানাবার চেষ্টার কোনো সুযোগ নেই।
এই হাদিসের অন্য বর্ণনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। বণর্নাটি শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী তার আত-তাওয়াসসুল কিতাবের ৬২ পৃষ্ঠায় এনেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। হযরত আব্বাস রা দোয়া করেছেন :
اللَّهُمَّ إِنَّهُ لَمْ يَنْزِلْ بَلَاءٌ إِلَّا بِذَنْبٍ وَلَمْ يُكْشَفْ إِلَّا بِتَوْبَةٍ وَقَدْ تَوَجَّهَ الْقَوْمُ بِي إِلَيْكَ لِمَكَانِي مِنْ نَبِيِّكَ وَهَذِهِ أَيْدِينَا إِلَيْكَ بِالذُّنُوبِ وَنَوَاصِينَا إِلَيْكَ بِالتَّوْبَةِ فَاسْقِنَا الْغَيْثَ .
অর্থ : হে আল্লাহ! প্রত্যেক বালামুসীবত গোনাহের কারণে আসে, আর তাওবা ছাড়া এটি দূর হয় না; হে আল্লাহ, আমার জাতি আমার মাধ্যমে আপনার শরণাপন্ন হয়েছে, কারণ আপনার প্রিয় নবীর সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে (নবীজীর চাচা)। আপনার সামনে আমাদের গোনাহগার হাতগুলো উপস্থিত, আর উপস্থিত আমাদের তাওবার সৌভাগ্য এবং আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। (আত-তাওয়াসসুল, পৃ. ৬২।)
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حُنَيْفٍ رضي الله عنه قَالَ: (أَتَى النَّبِيَّ - صلى اللهُ عليه وسلَّم - رَجُلٌ ضَرِيرُ الْبَصَرِ , فَقَالَ: ادْعُ اللهَ أَنْ يُعَافِيَنِي , فَقَالَ: " إِنْ شِئْتَ دَعَوْتُ لَكَ) (وَإِنْ شِئْتَ صَبَرْتَ) (فَهُوَ أَفْضَلُ لِآخِرَتِكَ " , قَالَ: لَا بَلْ ادْعُ اللهَ لِي) (" فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللهِ - صلى اللهُ عليه وسلَّم - أَنْ يَتَوَضَّأَ فَيُحْسِنَ وُضُوءَهُ , وَيُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ , وَيَدْعُوَ بِهَذَا الدُّعَاءِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ) (بِنَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ - صلى اللهُ عليه وسلَّم - نَبِيِّ الرَّحْمَةِ) (يَا مُحَمَّدُ) (إِنِّي تَوَجَّهْتُ بِكَ إِلَى رَبِّي فِي حَاجَتِي هَذِهِ لِتُقْضَى لِيَ اللَّهُمَّ فَشَفِّعْهُ فِيَّ) (قَالَ: فَفَعَلَ الرَّجُلُ فَبَرَأَ).
৫৬. হযরত উসমান ইবনে হুনাইফ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ক্ষীণ দৃষ্টির এক ব্যক্তি রাসুল সা. এর কাছে এসে বললেন, আল্লাহর কাছে আমার চোখের সুস্থতার জন্য দোয়া করুন। রাসুল সা. বললেন, তুমি চাইলে আমি তোমার জন্য দোয়া করব, আর চাইলে দোয়াকে বিলম্বিত করব। এটা তোমার জন্য উত্তম। সে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। রাসুল সা. তাকে অজু করার নিদর্শে দিলেন। তাকে উত্তম রূপে অজু করে দু’রাকাত নামায পড়ার আদেশ দিলেন এবং এই দোয়া পড়তে বললেন, হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আপনার নবী, রহমতের নবীর উসিলায় আপনার কাছে চাচ্ছি, হে মুহাম্মাদ! আমি আপনার মাধ্যমে আমার প্রভুর কাছে আমার এই প্রয়োজনে আবেদন করেছি যেন এটি পূরণ হয়। হে আল্লাহ, রাসুল সা.কে আমার ব্যাপারে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করুন এবং রাসুল সা. এর মাধ্যমে আমার এই দোয়াকে কবুল করেন। হযরত উসমান বিন হুনাইফ রা. বলেন, লোকটি এই দোয়া করল। এরপর সে ভালো হয়ে গেল। (মুসনাদে আহমাদ, খ.৪, ১৩৮ পৃ.; সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং- ৩৫৭৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ১৩৮৫;, সহিহ ইবনে খোজাইমা : ২/২২৫; বায়হাকি রচিত আদ-দাওয়াতুল কাবীর : ১/৩২৫।)
عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ الْخَبَائِرِيِّ , أَنَّ السَّمَاءَ قُحِطَتْ، فَخَرَجَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ - رضي الله عنهما - وَأَهْلُ دِمَشْقَ يَسْتَسْقُونَ فَلَمَّا قَعَدَ مُعَاوِيَةُ عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ: أَيْنَ يَزِيدُ بْنُ الأَسْوَدِ الْجُرَشِيُّ؟، فَنَادَاهُ النَّاسُ , فَأَقْبَلَ يَتَخَطَّى النَّاسَ، فَأَمَرَهُ مُعَاوِيَةُ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَقَعَدَ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ: اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَشْفِعُ إِلَيْكَ الْيَوْمَ بِخَيْرِنَا وَأَفْضَلِنَا، اللَّهُمَّ أَنَّا نَسْتَشْفِعُ إِلَيْكَ الْيَوْمَ بِيَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ الْجُرَشِيِّ , يَا يَزِيدُ , ارْفَعْ يَدَيْكَ إِلَى اللهِ، فَرَفَعَ يَزِيدُ يَدَيْهِ، وَرَفَعَ النَّاسُ أَيْدِيَهُمْ، فَمَا كَانَ أَوْشَكَ أَنْ ثَارَتْ سَحَابَةٌ فِي الْغَرْبِ، كَأَنَّهَا تُرْسٌ , وَهَبَّتْ لَهَا رِيحٌ، فَسُقِينَا , حَتَّى كَادَ النَّاسُ أَنْ لا يَبْلُغُوا مَنَازِلَهُمْ.
৫৭. হযরত সুলাইম ইবনে আমের আল-খাবাইরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আকাশে অনাবৃষ্টি দেখা দিলো। হযরত মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান রা. ও দামেশকের লোকেরা বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে বের হলো। হযরত মুয়াবিয়া রা. যখন মিম্বরে বসলেন, তিনি বললেন, ইয়াজীদ বিন আসওয়াদ জুরাশী কোথায়? লোকেরা তাকে ডাক দিলো। সে লোকদের ভিড় ঠেলে আসতে লাগলো। হযরত মুয়াবিয়া রা. তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি মিম্বরে উঠে হযরত মুয়াবিয়া রা. এর পায়ের কাছে বসলেন। হযরত মুয়াবিয়া রা. বললেন, হে আল্লাহ, আমরা আজ আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ও সর্বোত্তম ব্যক্তিকে সুপারিশকারী হিসেবে পেশ করছি, হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে আজ ইয়াজীদ বিন আসওয়াদ জুরাশীকে মাধ্যম বানিয়ে আবেদন করছি।
হে ইয়াজীদ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে, তুমি তোমার হাত উত্তোলন করো। ইয়াজীদ ইবনে আসওয়াদ তখন হাত উঠালেন। লোকেরাও তার সাথে হাত উঠালো। কিছুক্ষণের মধ্যে পশ্চিম আকাশে ঢালের মতো মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলো। চার দিকে বাতাস বইতে শুরু করল। আমাদের উপর এমন বৃষ্টি হলো যে, লোকেরা তাদের বাড়িতে যেতে পারছিল না। (ইরওয়াউল গালীল, হাদিস নং ৬৭২, একইভাবে শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী তার আত-তাওয়াসসুল কিতাবে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন : ১/৪১। )

Post a Comment

0 Comments