শরয়ি ওজন-পরিমাপের
আধুনিক রূপায়ণ
মুহিউদ্দীন কাসেমী
কুরআনে কারিম, হাদিস ও ফিকহের কিতাবে নিক্তি, পরিমাপ ও পরিমাণ বুঝানোর জন্য বিভিন্ন যন্ত্র ও মাধ্যমের পরিভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন :
قِنْطارٌ-مِثقَالٌ-حَبَّةٌ-صُوَاعٌ-حِمْلُ بَعِيْرٍ-ذِراع-دِينار-دِرهمٌ.
صاع-مد-قلة – فرق – إردبّ – عرق – وسق – قربة – مختوم – مكوك – قسط – مدي – قدح
قيراط – أوقية – قنطار – نش – نواة – رطل.
شبر – ذراع – باع.
বর্তমানকালে সেগুলোর আধুনিক রূপ না জানলে কুরআন-হাদিসের মর্ম উদঘাটন করা অসম্ভব। সাধারণ মানুষ তো আর সা’ বা নিফসে সা’ বুঝবে না। তারা বুঝবে কেজি, গ্রাম, মিলিগ্রাম, মিটার, সেন্টিমিটার, গজ, তুলা, ভরি ইত্যাদি আধুকি পরিভাষা। পরিমাপ সংক্রান্ত প্রায় সকল পরিভাষার আধুনিক রূপায়ণ সম্পর্কে বহুল সমাদৃত একটি গ্রন্থ হচ্ছে ‘আওজানে মাহমুদা’। গ্রন্থকার ভারতের প্রসিদ্ধ আলেম আমার উস্তাদ মাও. আবুল কালাম শফীক কাসেমী মাজাহেরী আমাকে গ্রন্থটি অনুবাদ করতে আদেশ করেছিলেন আরও আট-নয় বছর আগে; যখন আমি সায়লাম-চেন্নাইয়ে পড়তাম। এতদিন পরে অনুবাদ ও সংযোজনসহ বইটি শিগগির বাজারে আসবে- ইনশাল্লাহ। কুরআন-হাদিস চর্চাকারী সকল মানুষ- বিশেষত ইফতায় অধ্যয়নকারী সকলের কাছে বইটি থাকা অত্যাবশ্যক। ভারতের বিখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান মনসুরপুরী বইটির উচ্চকিত প্রশংসা করে বলেন, প্রত্যেক দারুল ইফতায় থাকা আবশ্যক।
আমার কাছে একটি আওজানে মাহমুদা সবসময় থাকে। মানুষজন জিজ্ঞেস করে বর্তমানে মোহরে ফাতেমী কত? ৫০০ দিরহাম বললে কি তারা বুঝবে? বলতে হবে ১৩৯ ভরি অথবা ১৫৩০ গ্রাম ৯০০ মিলিগ্রাম রূপা।
আশা করছি ঈদের পরপরই বইটি বাজারে আসবে। অনুবাদ শেষের দিকে। এখন একজন গণিত ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞকে দিয়ে রিভিউ করাতে হবে। অনুবাদের ছাপ ও ছোঁয়া কম। কাজটি শুভ সমাপ্তির জন্য দোয়া চাই। প্রকাশক অনেকদিন যাবত তাড়া দিচ্ছেন। তাঁর তাড়া খেয়েই কাজটি দ্রুত শেষ করছি। মূল বইটি হারিয়ে গেছিল; পরে পেয়েছি। বিষয়টি প্রকাশক জানেন না। এখন জানবেন।



0 Comments