nature beauty

header ads

ইকামতের পর ফজরের সুন্নত পড়াও নাজায়েয | Mohiuddin Kasemi


ইকামতের পর ফজরের সুন্নত পড়াও নাজায়েয
                                    মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
   
      ফরজ নামাযের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই মসজিদে জামাতের জন্যে ইকামত শুরু হয়ে গেলে নতুন করে আর কোনো সুন্নত-নফলের নিয়ত করা যাবে না। এ কারণেই ফুকাহায়ে কেরাম লিখেছেন, চার রাকাত সুন্নত-নফলের নিয়তে দাঁড়ানোর পর ইকামত হয়ে গেলে দ্রুত দুই রাকাত শেষ করে জামাতে শরিক হবে। তবে নামায ভেঙে দিয়ে শরিক হওয়া যাবে না। তিন রাকাতের বেশি পড়ে ফেললে দ্রুত চার রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। হাদিসও সুস্পষ্ট।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ.
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সা. ইরশাদ করেন : (ফরজ) নামাযের জন্যে ইকামত হলে ফরজ ব্যতীত আর কোনো নামায পড়া যাবে না। (সহিহ বুখারি, অধ্যায় নং-১০; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১৬৭৮, ১৬৭৯; তিরমিযি, হাদিস নং- ৪২১)।

عَنْ مَالِكِ ابْنِ بُحَيْنَةَ أَنَّ رَجُلًا دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَقَدْ أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاثَ بِهِ النَّاسُ فَقَالَ الصُّبْحُ أَرْبَعًا الصُّبْحُ أَرْبَعًا
হযরত মালেক ইবনে বুহাইনা রা. হতে বর্ণিত, ইকামত হওয়ার পর অর্থাৎ জামাত শুরু হওয়ার পর একব্যক্তি মসজিদে এসে দুই রাকাত ফজরের সুন্নত পড়ল। নামায শেষ হওয়ার পর লোকজন তাকে ঘিরে ধরল; তখন রাসুলে কারিম সা. তাকে বললেন, ফজরের (ফরজ) নামায কি চার রাকাত, ফজরের নামায কি চার রাকাত। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৬৩২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১৬৮২, ১৬৮৩)।
.
ইকামতের পরেও শুধু ফজরের সুন্নত পড়া যাবে
মসজিদের ভেতরে নয়, বাইরে

অন্যান্য সুন্নতের তুলনায় ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের গুরুত্ব অনেক বেশি। সাধারণ সুন্নতের কোনো কাযা নেই, কিন্তু ফজরের সুন্নত পড়ার সুযোগ না পেলে সূর্য উদয়ের পর পড়ার সুযোগ রয়েছে। এ কারণেই ইকামত হয়ে গেলেও জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে দ্রুততার সাথে ফজরের সুন্নত পড়ার অবকাশ আছে। তবে এই অবকাশ মসজিদের ভেতরে নয়, মসজিদের বাইরে। জামাত চলাকালীন নতুনভাবে যে-কোনো সুন্নত-নফল পড়া মাকরুহ। ফজরের সুন্নতও এর অন্তর্ভুক্ত। মসজিদের বাইরে কোনো জায়গা থাকলে সেখানে পড়তে পারবে।
দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান শায়খুল হাদিস, বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরি দা.বা. ক্লাসে বলেছিলেন, “ইকামত হওয়ার পর কোনো সুন্নত-নফল পড়া যাবে না, এমনকি ফজরের সুন্নতও না। তবে ফজরের সুন্নতের গুরুত্ব বেশি হওয়ার কারণে হানাফিগণ জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সুন্নত পড়ার অবকাশ দিয়েছেন। কিন্তু হানাফিদের মতেও এই অবকাশ কেবল মসজিদের বাইরে, ভেতরে নয়। কেউ সুন্নত পড়তে চাইলে ‘ইহাতায়ে মুলসুরিতে’ পড়বে, মসজিদে কাদিমের বারান্দায় নয়, বারান্দাও মসজিদের অন্তর্ভুক্ত।”
.
সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারাও বিষয়টি স্পষ্ট প্রমাণিত হয় :
عن أبي إسحاق قال حدثني عبد الله بن أبى موسى عن أبيه : حين دعاهم سعيد بن العاص دعا أبا موسى وحذيفة وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم قبل أن يصلى الغداة ثم خرجوا من عنده وقد أقيمت الصلاة فجلس عبد الله الى أسطوانة من المسجد فصلى الركعتين ثم دخل في الصلاة
হযরত আবু ইসহাক রহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু মুসা স্বীয় পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, সাঈদ ইবনুল আস আবু মুসা, হুজাইফা ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. -কে ফজরের পূর্বে দাওয়াত করেন। সবাই তার ঘর থেকে বেরিয়ে ফজরের নামাযের উদ্দেশে মসজিদে গিয়ে দেখে ইকামত হয়ে গেছে, তখন আবদুল¬াহ ইবনে মাসউদ রা. মসজিদের খুঁটির কাছে (মসজিদের বাইরে) দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামায পড়লেন অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করেন। অর্থাৎ জামাতে শরিক হন। (শরহু মাআনিল আসার, হাদিস নং- ২০৩৭)
এই হাদিস বর্ণনা করার পর ইমাম তাহাবি রহ. বলেন : فهذا عبد الله قد فعل هذا ومعه حذيفة وأبو موسى لا ينكران ذلك عليه فدل ذلك على موافقتهما إياه অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এ কাজটি করেছেন হুজাইফা ও আবু মুসা রা. এর উপস্থিতিতে, অথচ তারা বিরোধিতা করেননি। তা প্রমাণ করে তারাও তাঁর সঙ্গে একমত।

عن أبي مخلد : دخلت مع ابن عمر وابن عباس والإمام يصلي فأما ابن عمر فقد دخل في الصف وأما ابن عباس فصلى ركعتين ثم دخل مع الإمام فلما سلم الإمام قعد ابن عمر فلما طلعت الشمس ركع ركعتين
হযরত আবু মুখাল্লাদ রহ. বলেন, (ফজরের) জামাতচলাকালীন আমি হযরত ইবনে ওমর রা. এবং ইবনে আব্বাস রা. এর সঙ্গে মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন ইবনে ওমর রা. জামাতে শামিল হয়ে গেলেন। আর ইবনে আব্বাস রা. দুই রাকাত সুন্নত পড়ার পর ইমামের সঙ্গে শরিক হন। নামায শেষ হওয়ার পর ইবনে ওমর রা. বসে থাকলেন; সূর্য উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত সুন্নত আদায় করলেন। (মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ : ১/১৬৮)।

عن محمد بن كعب قال : خرج عبد الله بن عمر رضي الله عنهما من بيته فأقيمت صلاة الصبح فركع ركعتين قبل أن يدخل المسجد وهو في الطريق ثم دخل المسجد فصلى الصبح مع الناس
মুহাম্মদ ইবনে কা’ব রহ. বলেন, হযরত আবদুল¬াহ ইবনে ওমর রা. নিজের ঘর থেকে বের হলেন তখন মসজিদে ফজরের জামাত দাঁড়িয়ে গেছে, তাই তিনি মসজিদে প্রবেশের পূর্বে রাস্তায় দুই রাকাত সুন্নত পড়ার পর মসজিদে প্রবেশ করেন এবং মানুষের সঙ্গে জামাতে ফজরের নামায আদায় করেন। (শরহু মাআনিল আসার, হাদিস নং- ২০৪১; মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ : ১/১৬৮)।
.
অথচ দুঃখের বিষয় মসজিদগুলোতে একদিকে জামাত চলছে অন্যদিকে অনেক মানুষ সুন্নত পড়ছে। ফজরের সময় এই দৃশ্য প্রায় মসজিদেই পরিলক্ষিত হয়। এমনকি অনেকে বারান্দায়ও পড়ে না, কাতারের ভেতরে অথবা কাতারের কাছাকাছি পড়া শুরু করে। এত্থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। হানাফিদের কিতাবে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সরাসরি হাদিসের বিরোধিতা করতেও কুণ্ঠিত নয়! ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্যকে ঘাড় মটকিয়ে শরীয়তের মেজাজ না বুঝে প্রতিদিন জামাত চলবে আর ওদিকে সুন্নত পড়া হবে!! এটা কেমন কথা! এতই যদি সুন্নতের গুরুত্ব থাকে তাহলে পাঁচ/দশ মিনিট আগে মসজিদে আসা যায় না? অন্যদেরকে সুন্নতবিরোধী বলতে বলতে নিজেদের দিকে তাকানোর ফুরসত কোথায়?!

Post a Comment

0 Comments