nature beauty

header ads

নিজেরাই নিজেদের শত্রু! | Mohiuddin Kasemi

  নিজেরাই নিজেদের শত্রু! 
.
তামাম মুসলমান ইতিহাসের চরম ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। সন্দেহ নেই, সব থেকে অস্থির সময় পার করছে যে জাতি তার নাম মুসলিম। গত দুই দশকে মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলমান নিহত হয়েছে। নারী-পুরুষ ও শিশুসহ নিরপরাধ বেসামরিক মানুষদেরকে পাইকারী হারে হত্যা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আসলে আমাদের প্রকৃত শক্র কে?
.
এটাই নিশ্চিত, মুসলমানগণ নিজেরাই নিজেদের সব থেকে বড় শক্র। অঞ্চল, বর্ণ, মাযহাব, দল এভাবে শত বিভক্ত  এই উম্মত দিক হারিয়ে ফেলছে, এগুলো অনেক পূরনো। কত থিউরি এসছে, কত গবেষণা, কত রিসার্চ পেপার। তবুও উম্মতের মুক্তি মিলছে না। হতাশ জাতি এখন ‘মাহদি’ খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাহলে কী হবে এখন?
.
চিত্র খুবই ভয়াবহ। তবুও একটু দেখে নিই। এই যে এই দেশ। এখানে দলের নামে কতটি ভাগ, প্রত্যেক দল অপর দলের শুধু প্রতিদ্বন্দ্বীই নয় বরং পারলে অপর দলকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। ইসলামি আর অনৈসলামি নেই সবাই বরারর। এরপর হুজুররা। এটা সত্য, প্রত্যেকেই কাজ করছে। কিন্তু কার জন্য? বলবেন ইসলামের জন্য। সন্দেহ নেই। কিন্তু বাস্তবতা কী বলে?
.
একটি মাদরাসার মুহতামিম অপর মাদরাসার ধ্বংস কামনা করে। এই মাদরাসা ঐ মাদরাসার ছাত্রদের প্রতিপক্ষ মনে করে। বড় মাদরাসা ছোট মাদরাসাগুলোকে নিজের বলয়ে আনতে ও তাবেদার বানাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে। পীর সাহেব অপর পীর সাহেবকে নিশ্চিহ্ন করার সকল আয়োজন ঠিক রাখে। এই মসজিদের ইমাম ঐ মসজিদের ইমামকে একদম সহ্য করে না। এক মিটিংয়ে বসে, মিটিং শেষেই একে অপরের চৌদ্দগোষ্ঠী ধুয়ে দেয়।
.
নিজেদের বলয় মজবুত করা, অর্থনৈতিক সুবিধার সোর্সগুলো কুক্ষিগত করে নিজের করে রাখা, ভক্তবৃন্দকে অন্য হুজুরমুক্ত রাখা, বলয়ের বাইরে গেলে কাফির পর্যন্ত বলতে দ্বিধা না করা-- এগুলো সবই ইসলামকে আরো দুর্বল করে দিচ্ছে। মাদরাসা বৃদ্ধি পায়, মসজিদ বৃদ্ধি পায়, আলেম-হাফেয বৃদ্ধি পাচ্ছে-ইসলামের কী উপকার হলো? সবাইতো তার পেশায় আরো সমৃদ্ধ হলো, ইসলামই সবার মর্যাদা বাড়ালো আমরা ইসলামের জন্য কী করলাম?
.
‘তাওহীদ’ এই মূলমন্ত্রকে কেন্দ্র করেই সীসাঢালা প্রাচিরের ন্যায় একটি  ঐক্যবদ্ধ জাতি যাত্রা করেছে। এখনও তাউহিদই হতে পারে আমাদের দিশা। আমাদের শক্র আমরা নই, তাউহিদে বিশ্বাসীরা একে অপরের শত্রু নয়। আসুন আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞান আর রাসুলের রেখে যাওয়া উসওয়ায়ে হাসানাহ দ্বারা ঐক্যবদ্ধ হই। মনুষ্যসমাজ পঁচে যাচ্ছে, মানবজাতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব এই উম্মতের। আসুন ভাই আমরা একটি সুস্থ জাতি বিনির্মাণে হিংসা ভুলে যাই। গীবত বন্ধ হোক। সত্যিকার মুসলিম হয়ে যাই। আল্লাহ আমাদের তাউফিক দান করুন।
.
আসুন স্মরণ করি--

‘তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে’।

লিখেছেন : Mufti Monoar Hossen
ঈষৎ সম্পাদন : Mohiuddin Kasemi

Post a Comment

0 Comments