nature beauty

header ads

সন্তানদের বিছানা পৃথক রাখার নির্দেশ | Mohiuddin Kasemi


সন্তানদের বিছানা পৃথক রাখার নির্দেশ
ও আমাদের মাদরাসা
------------------------- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী

    রাসূলে কারিম সা. ইরশাদ করেন :
مُرُوا أَوْلاَدَكُمْ بِالصَّلاَةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِينَ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِى الْمَضَاجِعِ
অর্থ : সন্তানসন্ততি সাতবছরে উপনীত হলে নামাযের নির্দেশ দাও। দশবছরে পদার্পণ করলে নামাযের কারণে প্রহার করো এবং তাদেও বিছানা পৃথক করে দাও। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)
এ হাদিসটি সহিহ। হাদিসের বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সম্পর্কে কারো কোনো দ্বিমত নেই। ইসলাম মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতা ও নিষ্কলুষতা কামনা করে। যৌন অপরাধ ও সকল প্রকার গোনাহ থেকে দূরে থাকার কার্যকরী কৌশল ও উপায় বাতলে দিয়েছে। সামাজিকতা, পর্দাপুশিদা, প্রাইভেসি ও পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে ইসলাম অত্যন্ত কঠোর। সরাসরি অপরাধ তো দূরের কথা অপরাধের কাছাকাছি যাওয়ার কারণগুলোও কঠিনভাবে নিষেধ করেছে। তাই উপরের হাদিসে রাসুল সা. নামাযের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের সাথেসাথে দশবছরে উপনীত হওয়ার পর বাচ্চাদের বিছানা পৃথক করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ ছেলেমেয়ে সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আমাদের উস্তাদ মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরি বলেছেন, বিছানা পৃথক করার তিনটি স্তর রয়েছে। ১ম স্তর হল, সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেকের জন্য পৃথক রুমের ব্যবস্থা করা। ২য় স্তর, তাও সম্ভব না হলে একই রুমে পৃথক খাটের ব্যবস্থা করা। ৩য় স্তর, এও সম্ভব না হলে একই ফ্লোরে বা একই খাটে পৃথক বিছানার ব্যবস্থা করা। মশারি, বিছানাপত্র, কম্বল-কাঁথা আলাদা দেওয়া। দুজনের মাঝে যেন পার্থক্য থাকে। এটি সর্বনিম্ন স্তর। অক্ষমতার সুরতে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ১ম স্তরটিই সর্বোত্তম। সামর্থ্য থাকলে এটিই গ্রহণ করাই আবশ্যক।  
পাশাপাশি শুইলে ঘুমের ঘোরে পাশের জনের গায়ে পা বা শরীর লাগতে পারে। ঘুমের সময় যৌন চাহিদা বেশি থাকে। ঘুমে মানুষের স্বাভাবিক হুশ থাকে না। অসতর্ক না থাকলে অঘটন ঘটা অসম্ভব কিছু না। ঢাকার একটি দারুল ইফতায় ফতোয়া এসেছিল, বোনের পেটে ভাইয়ের বাচ্চা; এখন কী করা?
এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত কোনো দুর্ঘটনা ঘটার দূরবর্তী সম্ভাবনাকেও ইসলাম প্রতিরোধ করতে চেয়েছে। তাই পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছে, দশবছরে উপনীত হতে আলাদা আলাদা বিছানার ব্যবস্থা করো। উপরন্তু প্রত্যেকের প্রাইভেসি দরকার।
--
প্রায় বছরখানেক আগের কথা। একটি মাদরাসার হিফজখানার একটি সমস্যা শুনে আমি আতকে উঠি। আমি নিজে তদন্ত করে দেখি, ১১-১২ বছরের কয়েকজন ছেলে এসব গর্হিত কাজে জড়িত। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর মূল হোতার নাম পাওয়া গেল। ওকে ধোলাই দেওয়ার পর জানতে চাইলাম, তুই এটা শিখলি কোত্থেকে? বলল, আমার এক ফুফাতো ভাই আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। আমার সাথে ঘুমিয়েছিল। পরে...।
আমাদের দেশের অধিকাংশ মাদরাসা আবাসিক। ছেলেরা গাদাগাদি করে শোয়। অনেক জায়গায় তো মশারিও একটি। বিশাল মশারির নিচে সবাই ঘুমায়। এ কারণে অনেক গর্হিত কথা শুনতে হয়। একদিন মীরের বাজার থেকে বাসে চড়লাম। কয়েকজন হিজড়াও চাঁদা তুলতে উঠল। সবাই দিচ্ছে। আমিও নিরবে দশ টাকা দিয়ে দিলাম। আমার পাশের সিটে এক মুরুব্বি টাকা দিতে অস্বীকার করায় হিজড়ারা তাকে অপমান করছে। আমি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করলাম। অনেকটা হাতাহাতির মতো। তখন একটা হিজড়া বলে উঠল, হুজুর মানুষ; এখানে আইসা সাধুগিরি দেখায়; পোলানগরে তো...।
যাইহোক, আমি মনে মনে হাসি আবার দুঃখও লাগে! মূর্খ ও অবহহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়ও এ বিষয়টি জানে!!! তবে বিষয়টি যত বেশি বদনাম ছড়িয়েছে তত বেশি না। কোথাও কোথাও থাকতে পারে। কিন্তু ব্যাপকভাবে নেই। অল্পই হোক, এটা ছড়ানোর মূল কারণ হাদিসের ওপর আমল না করা। প্রত্যেক ছাত্রের পৃথক খাট থাকা আবশ্যক। সীমিত ছাত্র ভর্তি করিয়ে ব্যবস্থা করা যায়। প্রয়োজন কেবল সদিচ্ছার। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলা হয়। অথচ শরিয়তের একটি স্পষ্ট নির্দেশ মানার কোনো গুরুত্ব নেই। আল্লাহ সুমতি দান করুন। আমিন।
..
হাদিসের আরবি ব্যাখ্যা :
شرح سنن أبي داود ـ عبد المحسن العباد - (৩ / ৩১৭)
[(وفرقوا بينهم في المضاجع)] يعني أنهم لا يضطجع بعضهم مع بعض؛ حتى لا يحصل شيء من دواعي الشر أو شيء من الشيطان بحيث يحرك بعضهم على بعض، فلا يكون هناك اضطجاع من بعضهم مع بعضهم، وإنما يكون هناك تفريق، سواء أكانوا ذكوراً وإناثاً أم ذكرواً فقط أم إناثاً فقط؛ لأنه عندما يحصل التقارب يحصل بسببه شيء من تحريك الشهوة أو الفتنة أو ما إلى ذلك، فجاءت السنة بأن يمرنوا على ذلك، وأن يعودوا على ذلك وهم صغار، بحيث يبتعد بعضهم عن بعض، ولا يكون هناك تلاصق وتقارب بحيث يحصل معه شيء لا تحمد عقباه.

فيض القدير - (৫ / ৬৬৫)
(وفرقوا بينهم في المضاجع) أي فرقوا بين أولادكم في مضاجعهم التي ينامون فيها إذا بلغوا عشرا حذرا من غوائل الشهوة وإن كن أخواته قال الطيبي : جمع بين الأمر بالصلاة والتفرق بينهم في المضاجع في الطفولية تأديبا ومحافظة لأمر الله كله وتعليما لهم والمعاشرة بين الخلق وأن لا يقفوا مواقف التهم فيجتنبوا المحارم.

Post a Comment

0 Comments