নামাযে আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা
- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
নামাযের প্রথম বৈঠকে এবং শেষ বৈঠকেও বসার পর আত্তাহিয়্যাতু পড়তে হয়। আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা মুস্তাহাব। কখন ইশারা করবে? أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ পর্যন্ত পৌঁছার আগমুহূর্তে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা দ্বারা গোলক বানিয়ে শাহাদাত অঙ্গুলি অর্থাৎ তর্জনী দ্বারা উপরের দিকে উত্তোলন করে কেবলার দিকে ইশারা করবে। তখন অনামিকা ও কনিষ্ঠা হাতের তালুর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ বলার সময় আঙ্গুল উঠাবে আর إِلاَّ اللَّهُ বলার সময় আঙ্গুল নিচু করবে। তবে অন্য আঙ্গুলগুলো বৈঠকের শেষ পর্যন্ত ওভাবেই থাকবে। অর্থাৎ গোলক বা বৃত্ত ভেঙ্গে ফেলবে না।
এবার হাদিসগুলো দেখা যাক :
عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا قَعَدَ يَدْعُو وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ وَوَضَعَ إِبْهَامَهُ عَلَى إِصْبَعِهِ الْوُسْطَى وَيُلْقِمُ كَفَّهُ الْيُسْرَى رُكْبَتَهُ.
অ অর্থ : আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর স্বীয় পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলে কারিম সা. দুআর জন্যে বসলে ডান হাত ডান রানের ওপর আর বাম হাত বাম রানের ওপর রাখতেন। তর্জনী দ্বারা ইশারা করতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সঙ্গে মিলিয়ে রাখতেন। বাম হস্ততালুকে হাঁটুর সাথে মিলিয়ে রাখতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১৩৩৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ৮৫২৮)।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ : أَنَّهُ رَأَى رَجُلاً يُحَرِّكُ الْحَصَا بِيَدِهِ وَهُوَ فِى الصَّلاَةِ ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ : لاَ تُحَرِّكِ الْحَصَا وَأَنْتَ فِى الصَّلاَةِ ، فَإِنَّ ذَلِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ ، وَلَكِنِ اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَصْنَعُ.
قَالَ : وَكَيْفَ ؟ قَالَ : فَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ ، وَأَشَارَ بِإِصْبعِهِ الَّتِى تَلِى الإِبْهَامَ فِى الْقِبْلَةِ وَرَمَى بِبَصَرِهِ إِلَيْهَا أَوْ نَحْوِهَا ، ثُمَّ قَالَ : هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَصْنَعُ.
অর্থ : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. একব্যক্তিকে দেখলেন সে নামাযে আঙ্গুল দিয়ে পাথর সরাচ্ছে। নামায শেষে ইবনে ওমর রা. তাকে বললেন, তুমি নামাযে থাকাবস্থায় পাথর সরাবে না। কারণ, এটা শয়তানের কাজ। তবে রাসুলে কারিম সা. যা করেছেন তুমি তা করো। সে বলল, তা কীভাবে? ইবনে ওমর (তাকে দেখানোর জন্যে) ডান হাত রানের ওপর রাখলেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির সঙ্গে মিলিত অঙ্গুলি অর্থাৎ তর্জনী দ্বারা কেবলার দিকে ইশারা করলেন। আর ওই আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসুলকে এরূপ করতে দেখেছি। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ২৯০১)
حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا جَلَسَ فِى ثِنْتَيْنِ أَوْ فِى أَرْبَعٍ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ، ثُمَّ أَشَارَ بِإِصْبَعِهِ.
অর্থ : আমের ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলে কারিম সা. দুই রাকাত কিংবা চার রাকাতে বৈঠক করার সময় উভয় হাত উভয় হাঁটুতে রাখতেন এরপর (ডান হাতের তর্জনী) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ২৯০৩)
.
এক্ষেত্রে অনেকে তর্জনী দ্বারা ইশারা করার পরিবর্তে আঙ্গুল নাড়াতে থাকেন। তারা সম্ভবত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত এ হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত : ... ثُمَّ قَبَضَ ثَلاَثَةً مِنْ أَصَابِعِهِ ، وَحَلَّقَ حَلْقَةً ، ثُمَّ رَفَعَ إِصْبَعَهُ فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بِهَا. অর্থ : এরপর তিনি তিন আঙ্গুল মিলিত করে গোলাকার বৃত্ত বানালেন এবং তর্জনী উঁচু করলেন। আমি দেখলাম, তিনি তর্জনী নাড়াচ্ছেন ও দুআ করছেন। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং- ২৮৯৯)। কিন্তু অন্য বর্ণনায় এর উল্টো এসেছে : আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. বলেন, أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ يُشِيرُ بِإِصْبُعِهِ إِذَا دَعَا لاَ يُحَرِّكُهَا অর্থ : রাসুলে কারিম সা. যখন দুআ করতেন তখন তর্জনী দ্বারা ইশারা করতেন এবং তা নাড়াতেন না। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং- ২৮৯৭)। সুতরাং আঙ্গুল নাড়াতে থাকলে এই হাদিস মোতাবেক আমল হয় না। এই সমস্যার সমাধানকল্পে ইমাম বায়হাকি রহ. বলেন : فَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِالْتَحْرِيكِ الإِشَارَةَ بِهَا لاَ تَكْرِيرَ تَحْرِيكِهَا ، فَيَكُونُ مُوَافِقًا لِرِوَايَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ অর্থ : ওয়াইল রা. এর বর্ণনায় আঙ্গুল ‘নাড়ানো’ দ্বারা শুধু ইশারা করা উদ্দেশ্য হতে পারে, অনবরত আঙ্গুল নাড়ানো উদ্দেশ্য নয়। তাহলে ওয়াইলের বর্ণনা ইবনে যুবায়ের রা. এর বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাবে। (সুনানে বায়হাকি : ২/১৩২)।
- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
নামাযের প্রথম বৈঠকে এবং শেষ বৈঠকেও বসার পর আত্তাহিয়্যাতু পড়তে হয়। আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা মুস্তাহাব। কখন ইশারা করবে? أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ পর্যন্ত পৌঁছার আগমুহূর্তে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা দ্বারা গোলক বানিয়ে শাহাদাত অঙ্গুলি অর্থাৎ তর্জনী দ্বারা উপরের দিকে উত্তোলন করে কেবলার দিকে ইশারা করবে। তখন অনামিকা ও কনিষ্ঠা হাতের তালুর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ বলার সময় আঙ্গুল উঠাবে আর إِلاَّ اللَّهُ বলার সময় আঙ্গুল নিচু করবে। তবে অন্য আঙ্গুলগুলো বৈঠকের শেষ পর্যন্ত ওভাবেই থাকবে। অর্থাৎ গোলক বা বৃত্ত ভেঙ্গে ফেলবে না।
এবার হাদিসগুলো দেখা যাক :
عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا قَعَدَ يَدْعُو وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ وَوَضَعَ إِبْهَامَهُ عَلَى إِصْبَعِهِ الْوُسْطَى وَيُلْقِمُ كَفَّهُ الْيُسْرَى رُكْبَتَهُ.
অ অর্থ : আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর স্বীয় পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলে কারিম সা. দুআর জন্যে বসলে ডান হাত ডান রানের ওপর আর বাম হাত বাম রানের ওপর রাখতেন। তর্জনী দ্বারা ইশারা করতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সঙ্গে মিলিয়ে রাখতেন। বাম হস্ততালুকে হাঁটুর সাথে মিলিয়ে রাখতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১৩৩৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ৮৫২৮)।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ : أَنَّهُ رَأَى رَجُلاً يُحَرِّكُ الْحَصَا بِيَدِهِ وَهُوَ فِى الصَّلاَةِ ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ : لاَ تُحَرِّكِ الْحَصَا وَأَنْتَ فِى الصَّلاَةِ ، فَإِنَّ ذَلِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ ، وَلَكِنِ اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَصْنَعُ.
قَالَ : وَكَيْفَ ؟ قَالَ : فَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ ، وَأَشَارَ بِإِصْبعِهِ الَّتِى تَلِى الإِبْهَامَ فِى الْقِبْلَةِ وَرَمَى بِبَصَرِهِ إِلَيْهَا أَوْ نَحْوِهَا ، ثُمَّ قَالَ : هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَصْنَعُ.
অর্থ : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. একব্যক্তিকে দেখলেন সে নামাযে আঙ্গুল দিয়ে পাথর সরাচ্ছে। নামায শেষে ইবনে ওমর রা. তাকে বললেন, তুমি নামাযে থাকাবস্থায় পাথর সরাবে না। কারণ, এটা শয়তানের কাজ। তবে রাসুলে কারিম সা. যা করেছেন তুমি তা করো। সে বলল, তা কীভাবে? ইবনে ওমর (তাকে দেখানোর জন্যে) ডান হাত রানের ওপর রাখলেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির সঙ্গে মিলিত অঙ্গুলি অর্থাৎ তর্জনী দ্বারা কেবলার দিকে ইশারা করলেন। আর ওই আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসুলকে এরূপ করতে দেখেছি। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ২৯০১)
حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا جَلَسَ فِى ثِنْتَيْنِ أَوْ فِى أَرْبَعٍ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ، ثُمَّ أَشَارَ بِإِصْبَعِهِ.
অর্থ : আমের ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলে কারিম সা. দুই রাকাত কিংবা চার রাকাতে বৈঠক করার সময় উভয় হাত উভয় হাঁটুতে রাখতেন এরপর (ডান হাতের তর্জনী) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ২৯০৩)
.
এক্ষেত্রে অনেকে তর্জনী দ্বারা ইশারা করার পরিবর্তে আঙ্গুল নাড়াতে থাকেন। তারা সম্ভবত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত এ হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত : ... ثُمَّ قَبَضَ ثَلاَثَةً مِنْ أَصَابِعِهِ ، وَحَلَّقَ حَلْقَةً ، ثُمَّ رَفَعَ إِصْبَعَهُ فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بِهَا. অর্থ : এরপর তিনি তিন আঙ্গুল মিলিত করে গোলাকার বৃত্ত বানালেন এবং তর্জনী উঁচু করলেন। আমি দেখলাম, তিনি তর্জনী নাড়াচ্ছেন ও দুআ করছেন। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং- ২৮৯৯)। কিন্তু অন্য বর্ণনায় এর উল্টো এসেছে : আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. বলেন, أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ يُشِيرُ بِإِصْبُعِهِ إِذَا دَعَا لاَ يُحَرِّكُهَا অর্থ : রাসুলে কারিম সা. যখন দুআ করতেন তখন তর্জনী দ্বারা ইশারা করতেন এবং তা নাড়াতেন না। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং- ২৮৯৭)। সুতরাং আঙ্গুল নাড়াতে থাকলে এই হাদিস মোতাবেক আমল হয় না। এই সমস্যার সমাধানকল্পে ইমাম বায়হাকি রহ. বলেন : فَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِالْتَحْرِيكِ الإِشَارَةَ بِهَا لاَ تَكْرِيرَ تَحْرِيكِهَا ، فَيَكُونُ مُوَافِقًا لِرِوَايَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ অর্থ : ওয়াইল রা. এর বর্ণনায় আঙ্গুল ‘নাড়ানো’ দ্বারা শুধু ইশারা করা উদ্দেশ্য হতে পারে, অনবরত আঙ্গুল নাড়ানো উদ্দেশ্য নয়। তাহলে ওয়াইলের বর্ণনা ইবনে যুবায়ের রা. এর বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাবে। (সুনানে বায়হাকি : ২/১৩২)।



0 Comments