মডারেট ইসলাম: শাইখ ও শিষ্যের কথোপকথনের চুম্বকাংশ
শিষ্য: বর্তমানে আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান যেমন শেখ হাসিনা, সিসি, আসাদ এদের আনুগত্য করা কতটা জরুরি?
শাইখ: এদের আনুগত্য করা ওয়াজিব। ইসলামী খেলাফত কায়েম হলে খলীফার আনুগত্য যেমন ওয়াজিব শেখ হাসিনার আনুগত্যও ওয়াজিব (অবশ্য আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়)
শিষ্য: কিন্তু শেখ হাসিনা তো নারী। ইসলামে নারী নেতৃত্ব তো হারাম। আনুগত্য ওয়াজিব হয় কী করে?
শাইখ: তাতে কী হইছে? ইসলামে দাসের নেতৃত্বও হারাম। কিন্তু দাস নেতা হলে আনুগত্য ওয়াজিব। সুতরাং শেখ হাসিনার আনুগত্যও ওয়াজিব।
শিষ্য: সরকার যদি কুরআন ও শরীয়তের বিরোধিতা করে? ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে ডুবে থাকে?
শাইখ: ঐসব কাজে তার আনুগত্য করা যাবে না। কিন্তু তাই বলে প্রকাশ্য কুফুরী না পাওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না।
শিষ্য: সরাসরি কুরআন বিরোধী আইন পাস, ইসলাম ও শরীয়া নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা, ঠাট্টা কি কুফুরী নয়?
শাইখ: (শাইখ এখানে নীরব)
শিষ্য: সরকার যদি ইসলামী বিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে; বিদ্রোহ না করতে পারলেও অন্তত পক্ষে আমরা প্রতিবাদস্বরূপ মিছিল/হরতাল/বিক্ষোভ/অবরোধ করতে পারবো কি?
শাইখ: নাহ। এগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড!
শিষ্য: আচ্ছা হরতাল-অবরোধ বাদ দিলাম। ধর্মঘট অনশন করা যাবে কি?
শাইখ: নাহ। সেটাও নিষিদ্ধ ইসলামে।
শিষ্য: আরে শাইখ। সরকার ইসলাম বিরোধী আইন করবে। বিদ্রোহ করা যাবে না। হরতাল-অবরোধ করা যাবে না। ধর্মঘট করা যাবে না। তাহলে আমরা করবোটা কী?
শাইখ: অম্লমধুর সুরে নসীহাত করবা। ‘কিতাবুত তাওহীদ’ আর ‘বুলুগুল মারাম’ এর দরস দিবা। আকীদা ঠিক হয়ে গেলে মানুষের সবকিছু ঠিক হয়ে যাইবো।
শেষকথা: উম্মাহর জন্য এমনতর চিন্তা-চেতনা এবং এসব চেতনার ধারকরা ক্ষতিকর। দুর্বল উম্মাহকে সম্পূর্ণ বিকল ও পঙ্গু করে দেয় এগুলো। সচেতন না হলে এসব শাইখদের শিষ্যদের পদস্খলন অনিবার্য। ইসলামের কি ভাসাভাসা ব্যাখ্যা! আল্লাহ আমাদের সবাইকে সরল পটে অটল রাখুন। আমীন।
.
মীযান হারূন



0 Comments