nature beauty

header ads

স্বজনপ্রীতি কখন নিন্দনীয়? | Mohiuddin Kasemi


স্বজনপ্রীতি কখন নিন্দনীয়?
-------------------------- মুহিউদ্দীন কাসেমী


   ইসলাম কেবল আল্লাহভীরু, মুত্তাকী ও পরহেযাগারকেই দায়িত্ব দিতে চায়। যেন সে নিজেই নিজের পর্যবেক্ষক ও অভিভাবক হতে পারে। শয়তান যখনই তাকে বিপথগামী করতে চাইবে, তাকে সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত করতে সচেষ্ট হবে এবং যখনই তার নফসে আম্মারা তাকে ইনসাফের পথ পরিহার করে জুলুম ও অত্যাচার করতে প্ররোচণা দিবে, সে নিজের পদ দ্বারা অবৈধ ফায়েদা হাসিলের জন্যে উদগ্রীব হবে অথবা কুপ্রবৃত্তির অনুসারী ও স্বার্থান্বেষী মহলের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্রতী হবে; তখনই সে যেন খোদাভীতির দ্বারা নিজেকে এসব অপকর্ম থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়। সুতরাং প্রত্যেক কাজের জন্য যোগ্য ব্যক্তিকেই নিয়োগ দিলে আমানত রক্ষা পাবে। যোগ্যকে রেখে অযোগ্যকে নিয়োগ দিলে খেয়ানত হবে।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
مَنِ اسْتَعْمَلَ رَجُلاً مِنْ عِصَابَةٍ وَفِي تِلْكَ الْعِصَابَةِ مِنْ هُوَ أَرْضَى لِلَّهِ فَقَدْ خَانَ اللَّهَ وَ رَسُولَهُ وَخَانَ الْمُؤْمِنِينَ.
‘যে ব্যক্তি কোনো একটি দল বা গোষ্ঠী থেকে কাউকে কোনো কাজে নিয়োগ দেয়; অথচ ওই গোষ্ঠীতে এমন লোক ছিল যে আল্লাহর কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়, তাহলে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে খেয়ানত করল, খেয়ানত করল সকল মুসলমানের সঙ্গেও।’ (ইমাম হাকেম আলমুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, কিতাবুল আহকাম, অধ্যায় : ক্ষমতা একটি আমানত, এর কারণে কেয়ামতের দিনে লজ্জিত ও অপমানিত হতে হবে। খ. ৪, পৃ. ৯২, হাদীস নং- ৭০২৩; এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ, যদিও ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম স্বীয় গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেননি)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- :্র مَنِ اسْتَعْمَلَ عَامِلاً مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ فِيهِمْ أَوْلَى بِذَلِكَ مِنْهُ وَأَعْلَمُ بِكِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ فَقَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَجَمِيعَ الْمُسْلِمِينَ গ্ধ.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন : ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের মধ্য হতে কাউকে কর্মচারী নিয়োগ করে; অথচ সে জানে তাদের মধ্যে তার থেকে উত্তম এবং আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ব্যক্তি বিদ্যমান ছিল, তাহলে সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল সা. এবং সকল মুসলমানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। (সুনানে কুবরা : খ. ১০, পৃ. ১১৮, হাদীস নং-২০৮৬১)
আল্লামা ইবনুল জাওযী রহ. বলেন :
عن عبد الملك بن عمير قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "من استعمل رجلاً لمودة أو لقرابة لا يستعمله إلا لذلك فقد خان الله ورسوله والمؤمنين"
আবদুল মালেক ইবনে উমায়ের রহ. বর্ণনা করেন, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি কাউকে শুধু বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা কিংবা আত্মীয়তার কারণে [সরকারি] কাজে নিয়োগ দিল, তাহলে সে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল এবং সকল মুসলমানের সাথে খেয়ানত করল।’ (তারীখে উমর ইবনুল খাত্তাব : পৃ. ৯৪-৯৫)
ইমাম আহমদ রহ. স্বীয় সনদে হযরত আবুবকর সিদ্দীক রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ شَيْئًا فَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أَحَدًا مُحَابَاةً فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلَا عَدْلًا حَتَّى يُدْخِلَهُ جَهَنَّمَ
‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের শাসনভার লাভ করার পর কেবল আত্মীয়তার কারণে কাউকে নেতৃত্বের স্থানে বসায়, তার ওপর আল্লাহ তাআলার অভিসম্পাত; আল্লাহ তাআলা তার কোনো ফরজ ও নফল ইবাদত কবুল করবেন না, অবশেষে তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল : খ. ১, পৃ. ১৬৬, চতুর্থ মুদ্রণ, দারুল মাআরেফ, মিসর : ১৩৭৩ হিজরি; হাকেম মুস্তাদরাকে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল আহকাম, অধ্যায় : ক্ষমতা একটি আমানত, এর কারণে লজ্জিত ও অপমানিত হতে হবে : খ. ৪, পৃ. ৯৩, হাদীস নং-২১; ইমাম হাকেম হাদীস সম্পর্কে বলেছেন, এর সনদ সহীহ, যদিও ইমাম বুখারি ও মুসলিম তা বর্ণনা করেন নি)

এখন প্রশ্ন হতে পারে অসংখ্য হাদীসে তো আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা এবং আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতা করার কথা এসেছে। তাই কোনো আত্মীয়কে কোনো পদে বসালে নিন্দনীয় কেন? এর দ্বারা তো আত্মীয়দের সহযোগিতা করা হল। এর উত্তর হল, নিজের একান্ত ব্যক্তিগত কাজে যদি কোনো অযোগ্য আত্মীয়কে নিয়োগ দেয় তাহলে দোষের কিছু না। ক্ষতি হলে নিজের হবে। কিন্তু অন্যের কাজে; বিশেষত রাষ্ট্রীয় কাজে যোগ্য ব্যক্তিকে রেখে অযোগ্যকে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। এর দ্বারা রাষ্ট্র ও সাধারণ জনগণের হক বিনষ্ট করার পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তির অধিকারও হরণ করা হল। আরেকটি ক্ষেত্রেও আত্মীয়কে সুযোগ দিলে স্বজনপ্রীতি হবে না; আর তা হচ্ছে কোনো পদে একাধিক প্রার্থী সমযোগ্যতার অধিকারী হলে আত্মীয়কে প্রাধান্য দেওয়া দোষের কিছু না। যেমন নিয়োগ পরীক্ষায় পাঁচজন ভালো করেছে। নেওয়া হবে মাত্র একজন। এখান থেকে আত্মীয়কে নিয়োগ দিলে আমানতের খেয়ানত হবে না। কারণ, সেও অন্যান্য প্রার্থীদের মতো যোগ্যতার অধিকারী।

Post a Comment

0 Comments