মহিলাদের জন্য মসজিদে নামাযের ব্যবস্থা আবশ্যক!
---------------------------- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান শায়খুল হাদিস মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরি দা.বা. বলেন, একবার আমার ছোটো ভাই মুফতি আমিন পালনপুরি হজ থেকে ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিল ছিল। দিল্লি এয়ারপোর্ট নেমে প্রাইভেটকারে দেওবন্দের পথ ধরলেন। রাস্তায় মিরঠে আসার পর কোনো এক নামাযের সময় হল। মসজিদে জামাত হয়ে গেছে। জামাতের পর তিনি স্ত্রীসহ মসজিদে ঢুকলেন। স্ত্রীকে একপাশে নামাযে দাঁড়াতে বললেন। ঠিক তখনি ইমাম সাহেব দৌড়ে এসে বললেন, নাউজুবিল্লাহ! এটা কী করছেন? মহিলাকে নিয়ে মসজিদে এলেন কেন? মহিলাদের মসজিদে আসা জায়েয নেই। তিনি বললেন, এ ফতোয়া কে দিয়েছে? ইমাম বলল, এটা দেওবন্দের ফতোয়া। মুফতি সাহেব বললেন, আমিই তো দেওবন্দের মুফতি!
এ ঘটনা শুনিয়ে মুফতি সাহেব হাসলেন। ছাত্ররা সবাই হাসল। মুফতি সাহেব এখানে এসে মূলনীতি বললেন, অনেক সময় একটি মাসআলার কারণে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।
.
মহিলাদের মসজিদে গমনের দালিলিক আলোচনা করা আমার উদ্দেশ্যে নয়। একটি বিষয়ের প্রতি ইনসাফের আচরণ কামনা করছি। রেলস্টেশন, বাসস্টপ, বিমানবন্দর, বাজার ও মার্কেট, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালসহ যেসব স্থানে মহিলাদের গমন আবশ্যক সেসব স্থানে মহিলাদের নামাযের জায়গা রাখা জরুরি মনে করি। এখন মহিলাদের জন্য স্বতন্ত্র মসজিদ বা নামাযের স্থান নির্মাণ করা সম্ভব না হলে পুরুষের মসজিদের একটি তলা বা এক পাশে পর্দা দিয়ে ব্যবস্থা করলেই হল।
দেখুন, রাসূল সা. এর যুগে মহিলারা পুরুষের পেছনে একই ফ্লোরে নামায পড়ত। তাদের জন্য আলাদা তলা, ফ্লোর এমনকি পর্দা দিয়ে পৃথক স্থানের ব্যবস্থাও ছিল না। বরং পুরুষ, বাচ্চাদের পেছনে একই ফ্লোরে নামায পড়ত। এটাই হাদিস থেকে অনুমিত হয়। সে কারণে আমাদের সকল ফিকহের কিতাবে নামাযের কাতার করার ক্ষেত্রে প্রথমে পুরুষ, পরে বাচ্চা, পরে হিজড়া এরপর নারীদের দাঁড়াতে বলা হয়েছে। কিন্তু ফেতনার ভয়ে আমরা এ আমল থেকে সরে এসেছি। কারণ, সরাসরি হাদিস আছে, নারীদের মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে ঘরের কোণে নামায পড়া উত্তম। এ কারণে ফতোয়া হল, ফেতনার আশঙ্কা না থাকলে নারীগণ মসজিদে যেতে পারেন। যাওয়া আবশ্যক নয়। গেলেও সম্পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে যাবে-আসবে এবং পর্দার ভেতরে নামায পড়বে। ফেতনার আশঙ্কায় আমাদের দেশের অধিকাংশ মসজিদে নারীদের নামাযের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। পাড়া-মহল্লার মসজিদে এটা তেমন দোষের কিছু না। কিন্তু উপর্যুক্ত স্থান সমূহে মহিলারা নামায পড়বে কোথায়? যে কারণে লাখো নারীর নামায কাজা হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দর, বিভিন্ন স্টপেজ ও স্থানে নারীদের অবস্থান করতে গিয়ে নামায ছুটে যাচ্ছে।
আমাদের দেশে নারীদের মসজিদে গমন নিয়ে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি পরিলক্ষিত হয়। এসব কাম্য নয়।
---------------------------- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান শায়খুল হাদিস মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরি দা.বা. বলেন, একবার আমার ছোটো ভাই মুফতি আমিন পালনপুরি হজ থেকে ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিল ছিল। দিল্লি এয়ারপোর্ট নেমে প্রাইভেটকারে দেওবন্দের পথ ধরলেন। রাস্তায় মিরঠে আসার পর কোনো এক নামাযের সময় হল। মসজিদে জামাত হয়ে গেছে। জামাতের পর তিনি স্ত্রীসহ মসজিদে ঢুকলেন। স্ত্রীকে একপাশে নামাযে দাঁড়াতে বললেন। ঠিক তখনি ইমাম সাহেব দৌড়ে এসে বললেন, নাউজুবিল্লাহ! এটা কী করছেন? মহিলাকে নিয়ে মসজিদে এলেন কেন? মহিলাদের মসজিদে আসা জায়েয নেই। তিনি বললেন, এ ফতোয়া কে দিয়েছে? ইমাম বলল, এটা দেওবন্দের ফতোয়া। মুফতি সাহেব বললেন, আমিই তো দেওবন্দের মুফতি!
এ ঘটনা শুনিয়ে মুফতি সাহেব হাসলেন। ছাত্ররা সবাই হাসল। মুফতি সাহেব এখানে এসে মূলনীতি বললেন, অনেক সময় একটি মাসআলার কারণে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।
.
মহিলাদের মসজিদে গমনের দালিলিক আলোচনা করা আমার উদ্দেশ্যে নয়। একটি বিষয়ের প্রতি ইনসাফের আচরণ কামনা করছি। রেলস্টেশন, বাসস্টপ, বিমানবন্দর, বাজার ও মার্কেট, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালসহ যেসব স্থানে মহিলাদের গমন আবশ্যক সেসব স্থানে মহিলাদের নামাযের জায়গা রাখা জরুরি মনে করি। এখন মহিলাদের জন্য স্বতন্ত্র মসজিদ বা নামাযের স্থান নির্মাণ করা সম্ভব না হলে পুরুষের মসজিদের একটি তলা বা এক পাশে পর্দা দিয়ে ব্যবস্থা করলেই হল।
দেখুন, রাসূল সা. এর যুগে মহিলারা পুরুষের পেছনে একই ফ্লোরে নামায পড়ত। তাদের জন্য আলাদা তলা, ফ্লোর এমনকি পর্দা দিয়ে পৃথক স্থানের ব্যবস্থাও ছিল না। বরং পুরুষ, বাচ্চাদের পেছনে একই ফ্লোরে নামায পড়ত। এটাই হাদিস থেকে অনুমিত হয়। সে কারণে আমাদের সকল ফিকহের কিতাবে নামাযের কাতার করার ক্ষেত্রে প্রথমে পুরুষ, পরে বাচ্চা, পরে হিজড়া এরপর নারীদের দাঁড়াতে বলা হয়েছে। কিন্তু ফেতনার ভয়ে আমরা এ আমল থেকে সরে এসেছি। কারণ, সরাসরি হাদিস আছে, নারীদের মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে ঘরের কোণে নামায পড়া উত্তম। এ কারণে ফতোয়া হল, ফেতনার আশঙ্কা না থাকলে নারীগণ মসজিদে যেতে পারেন। যাওয়া আবশ্যক নয়। গেলেও সম্পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে যাবে-আসবে এবং পর্দার ভেতরে নামায পড়বে। ফেতনার আশঙ্কায় আমাদের দেশের অধিকাংশ মসজিদে নারীদের নামাযের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। পাড়া-মহল্লার মসজিদে এটা তেমন দোষের কিছু না। কিন্তু উপর্যুক্ত স্থান সমূহে মহিলারা নামায পড়বে কোথায়? যে কারণে লাখো নারীর নামায কাজা হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দর, বিভিন্ন স্টপেজ ও স্থানে নারীদের অবস্থান করতে গিয়ে নামায ছুটে যাচ্ছে।
আমাদের দেশে নারীদের মসজিদে গমন নিয়ে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি পরিলক্ষিত হয়। এসব কাম্য নয়।



0 Comments