nature beauty

header ads

আহলে হাদিস ও মাওলানা সাঈদী | Mohiuddin Kasemi

আহলে হাদিস ও মাওলানা সাঈদী
                                - মুহিউদ্দীন কাসেমী

   ইমাম মালেক রহ. একজন বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকিহ। প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের একটি তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। তিনি হাদিসের সঙ্কলন তৈরি করেন ‘মুআত্তা মালেক’। তৎকালীন দুনিয়ায় হইচই পড়ে যায়। সময়ের বাদশা হারুনুর রশীদ তাঁকে বলেন, আপনার এ কিতাবটি পবিত্র কাবা ঘরে ঝুলিয়ে রাখব; যেন মানুষ এ কিতাব অনুযায়ী আমল করে। অন্যসব মত ও পথ পরিহার করবে। ইমাম মালেক রহ. অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললেন, আপনি এ কাজ করবেন না। রাসুল সা. এর সাহাবিগণের মাধ্যমে বিভিন্ন শহরে ও অঞ্চলে বিভিন্ন আমল চালু হয়ে গেছে। সবগুলো মতই সঠিক। সুতরাং যে-কোনো একটি মত সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না। সময়োচিত জবাব শুনে বাদশা তাঁর জন্য দোয়া করেন।
.
হারুনুর রশীদের আগে মনসুরও একই আবেদন করেন। একবার হজের সফরে মনসুরের সাথে ইমাম মালেকের সাক্ষাৎ হয়। বাদশা বলতে লাগল, আমার দৃঢ় ইচ্ছা আপনার এ কিতাবটি প্রত্যেকটি মুসলিম ভূখণ্ডে পাঠিয়ে দেবো। সবাই এ কিতাব অনুযায়ী আমল করবে। অপর মতগুলো পরিহার করা হবে।
ইমাম মালেক রহ. তাঁকে যে উত্তর দিয়েছিলেন ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, থাকবে চিরকাল। তাঁর ভাষ্য দেখি :
لا تفعل هذا فإن الناس قد سبقت إليهم الأقاويل وسمعوا أحاديث ورووا روايات وأخذ كل قوم بما سبق إليهم ودانوا به فدع الناس وما اختار أهل كل بلد منهم لأنفسهم .
ভাবার্থ : আপনি কষনও এ কাজ করবেন না। তাঁদের কাছে বিভিন্ন মত ও হাদিস পৌছে গেছে। অনেক বর্ণনা তাঁদের কাছে আছে। সেগুলো তাঁরা গ্রহণ করেছে ও আমল শুরু করেছে। কারণ, এ মতগুলো তাঁদের কাছে আগে এসেছে। সুতরাং মানুষজনকে তাঁদের পূর্বের আমলের ওপর থাকতে দিন। (তাবাকাতে কুবরা : খ. ১, পৃ. ৪৪০; লেখক ইবনে সাদ, মৃত : ২৩০ হিজরি)
.
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, একই ইবাদতে একাধিক পদ্ধতি থাকলে সারাজীবন এক পদ্ধতিতে আমল করা আর কখনও কখনও বা সারাজীবনে দুয়েকবার ভিন্ন পদ্ধতির ওপর আমল করা-- এটাই উত্তম। যেমন নামাযে রফউল ইয়াদাইন করা ও না করা। আজকে এক পদ্ধতি করলাম তো কালকে আরেক পদ্ধতি করলাম, এটা ঠিক না। কারণ, সাহাবায়ে কেরাম যারা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, সারাজীবন সে অনুযায়ী আমল করেছেন।
.
নামাযের রুহ হচ্ছে খুশুখুজু। তন্ময়তা। একাগ্রতা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (১) الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ
‘তারা সফল যারা খুশুখুজুর সাথে নামায পড়ে’।
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে :
فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ (৪) الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
‘ওইসব নামাযিরা ধ্বংস হোক যারা গাফেল’।

সুতরাং নামাযের রুহ বাদ দিয়ে অতিরিক্ত বিষয় নিয়ে হুলস্থূল কাণ্ড ঘটানোর কী দরকার? এসব মতানৈক্যপূর্ণ মাসায়েল নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কী প্রয়োজন? বাংলাদেশের কয় কোটি মুসলমান নামায পড়ে না? তাদের নিয়ে চিন্তা করেছেন কখনও? বেনামাযিদের বাদ দিয়ে নামাযিদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করা কি বুদ্ধিমানের কাজ? আপনাদের অন্যান্য বিষয়গুলো বললাম না। শুধু এ বিষয়টা গভীরভাবে ভেবে দেখুন। উপরে ইমাম মালেক রহ. এর উত্তরটি বারবার ভাবুন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আকাশচুম্বী খ্যাতি পেয়েছেন মাওলানা সাঈদী। প্রায় সব মত ও পথের লোকদের কাছেই সমান জনপ্রিয় তিনি। তাঁর ওয়াজগুলো শুনে দেখেন সারাজীবন নামাযের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন; কোনোদিন মতানৈক্যপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করেননি। তার অকল্পনীয় জনপ্রিয়তার এটিও একটি কারণ।
.
বেনামাযি নামাযি হোক, এটাই মূল বিষয়। সে রাফউল ইয়াদাইন করল নাকি ছেড়ে দিল, এটা মূল বিষয় না। কিছু বক্তা এজেন্ডা বানিয়ে নিয়েছে সাঈদী সাহেবের ভুল ধরা। একজন মজলুম আলেম কারাগারে আছেন, আর আপনারা এসি রুমে বসে তাঁর সমালোচনা করেন!

ইমাম মালেক রহ. এর উপর্যুক্ত কর্মপন্থাই আমাদের কর্মপন্থা হওয়া উচিত। মাওলানা আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. ছিলেন ইমাম মালেকের সত্যিকার অনুসারী।
এ দেশে রাজারবাগী, আটরশি, চন্দ্রপুরী, কোদালপুরি, কুতুববাগী, মাইজভাণ্ডারীসহ হাজারও ভণ্ড আছে, তাদের বিরুদ্ধাচরণ বাদ দিয়ে হানাফিদের পেছনে লাগলেন কেন? নাস্তিক-মুরতাদ এবং খোদাদ্রোহী শয়তান ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে আপনাদের একটি বিবৃতি পর্যন্ত নাই কেন?

Post a Comment

0 Comments