যতিচিহ্ন : ০৪
__________________ মুহিউদ্দীন কাসেমী
কোলন [:]
স্মরণ রাখা দরকার, কোলন বিসর্গের মতো নয়। : ঃ দুটো কি এক? বিসর্গের মাঝে ফাঁক থাকলেও কোলনে নেই। তা সত্ত্বেও অনেকে বিসর্গকে কোলন মনে করে একটিকে অপরটির আসনে বসিয়ে দিচ্ছেন।
কোলনের ব্যবহার-স্থান
কোলনের প্রধান দায়িত্ব হল, বাক্যের অন্তর্গত কোনো অংশকে বিশদ করা। এর আবার কয়েকটি সুরত হতে পারে :
ক. আরবিতে قال এবং বাংলাতে ‘বলল’ বা এর সমার্থক শব্দের পর কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন : নবী কারিম সা. বললেন : তোমরা জামাতের সাথে নামায পড়।
খ. কোনো বিবৃতিকে সম্পূর্ণ করতে দৃষ্টান্ত দিতে হলে কোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন : পদ পাঁচ প্রকার : বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।
গ. কোনো কিছুর সংজ্ঞা দেওয়ার পর উদাহরণ দিতে গিয়ে ‘যেমন’ ব্যবহার করা হয়; এই ‘যেমন’ -এর পর কোলন বসে। উপরে আমরা প্রায় উদাহরণ এভাবেই পেশ করেছি। তবে এক্ষেত্রে কমা কিংবা ড্যাশ দিয়েও কাজ চালানো যায়। যেমন,/যেমন :
ঘ. চিঠিপত্র ও বিভিন্ন রকমের ফরমে ভুক্তি বা উপভুক্তির পরে কোলন বসে। যেমন :
ঠিকানা :
তারিখ :
নাম :
পিতা :
গ্রাম :
একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বই-পুস্তকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতে। যেমন :
লেখক/সঙ্কলক :
সম্পাদক :
কম্পোজ/বর্ণবিন্যাস :
বি.দ্র. এসব ক্ষেত্রে অনেকে বিসর্গ ঃ ব্যবহার করে থাকে যা চরম ভুল।
---
কোলন-ড্যাশ [:--]
আজকাল কোলন-ড্যাশের ব্যবহার তেমন একটা চোখে পড়ে না। পূর্বকালে কোলনের তুলনায় কোলন-ড্যাশ ব্যবহার হতো বেশি। বর্তমানে কোলন-ড্যাশের স্থান দখল করেছে কোলন এবং ড্যাশ। কারণ, কোলন-ড্যাশের কাজ কোলন অথবা ড্যাশ দিয়ে হয়ে যায়। সুতরাং বলা যায়, কোলন অথবা ড্যাশের প্রয়োগক্ষেত্রই হচ্ছে কোলন-ড্যাশের প্রয়োগক্ষেত্র।
এই লেখাটি আমার বই বানানচর্চার | বইটি অনলাইন অডার দিতে নিচে ক্লিক করুন >




0 Comments