nature beauty

header ads

ওয়াজ - মাহফিল |পর্ব:১ | Mohiuddin Kasemi


ওয়াজ-নসিহত : ০১
_____________ মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী


(সামনে শীতকাল। ওয়াজের মওসুম। অনেক এলাকায় ওয়াজ-মাহফিল শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, অলিগলিতে অনেক মাহফিল হয়। পৃথিবীর আর কোনো দেশে এত মাহফিল হয় না। শরিয়তের মানদণ্ডে এ মাহফিলগুলো কতটুকু উত্তীর্ণ? প্রয়োজনই বা কী? বিষয়টি নিয়ে লাগাতার কয়েকটি পোস্ট দেবো- ইনশাল্লাহ। দালিলিক ও যৌক্তিক ভিন্নমত সাদরে গৃহীত হবে। আবোলতাবোল কথার কোনো মূল্য নেই।)
---
ওয়াজ-মাহফিল করার নিয়ম 

ওয়াজ-নসিহত করা অর্থাৎ উপদেশ দেওয়া একটি উত্তম ও মহৎ কাজ। সওয়াব ও পুণ্যের বিষয়। উপদেশ দিয়ে কাউকে সৎপথে আনতে পারলে আহ্বানকারীও আমলকারীর অনুরূপ সওয়াব পাবে। পবিত্র কুরআনেও ওয়াজ করার কথা রয়েছে। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই ওয়াজ করতেন। সাহাবিদেরকে উপদেশ দিতেন। জীবনের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় বাতলে দিতেন। প্রয়োজন হলে কোনো বিষয় সংশোধন করে দিতেন। রাসুল সা. এর পর সাহাবিগণও ওয়াজ করতেন। তাঁদের এ ওয়াজের কোনো নির্দিষ্ট সময় ও স্থান ছিল না। যখন যেখানে যতটুকু প্রয়োজন মনে করেছেন, ততটুকু উপদেশ দিয়েছেন। তবে তাঁরা সাধারণত ফরজ নামাযের পর মসজিদে কোনো দরকারি কথা থাকলে বলে দিতেন, ওয়াজ-নসিহত করতেন। যুদ্ধের ময়দানে, কাউকে বিদায় জানাতে, কারো বাড়িতে গেলে, কারো জানাযায় ইত্যাদি সময়ে কোথাও কোথাও ওয়াজ করেছেন বলে হাদিস ও সিরাতের কিতাবে পাওয়া যায়। কিন্তু ওয়াজের জন্য স্বতন্ত্র কোনো জায়গা বা মাঠ ছিল না।
ওয়াজ করা একটি ইবাদতও বটে। রাসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরাম এ ইবাদতটি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করেছেন। ওয়াজ-নসিহত করে তাঁরা কোনো বিনিময় গ্রহণ করতেন না।
সুতরাং একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি নিজের এবং শ্রোতাদের সুযোগ ও প্রয়োজনমতো যে-কোনো সময় ওয়াজ করতে পারেন। মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে দীনের কথা বলাই হচ্ছে ওয়াজ-নসিহত। দাওয়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে ওয়াজ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
অর্থ : আপনি মানুষকে আপনার রবের দিকে ডাকুন প্রজ্ঞা ও উত্তম ওয়াজের মাধ্যমে। (প্রয়োজনে) তাদের সঙ্গে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করুন। (সূরা নাহল : ১২৫)
قَالَ الْعِرْبَاضُ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ
অর্থ : হযরত ইরবায রা. বলেন, একবার রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন। অতঃপর আমাদের মুখোমুখি হয়ে অলঙ্কারপূর্ণ ওয়াজ করলেন; ফলে চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল, অন্তর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। (সুনানে আবী দাউদ, হাদিস নং- ৪৬০৯)
ওয়াজের জন্যে আলাদা মাহফিলেরও তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। মসজিদেই ওয়াজ হতে পারে। রাসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরাম সাধারণত মসজিদেই ওয়াজ করতেন। হা, মসজিদে জায়গা সঙ্কুলান না হলে বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে বাইরে কোথাও ওয়াজের মাহফিল করতে শরিয়তগত কোনো বাধানিষেধ নেই।
ওয়াজ-নসিহত নিরেট একটি পুণ্যের কাজ হলেও আজকে এর ভেতর অনেক অনিষ্টতা প্রবেশ করেছে। ওয়াজ করতে ও করাতে গিয়ে শরিয়তের মেজাজ, চাহিদা, দাবি ও বিধানের প্রতি ভ্রƒক্ষেপ করা হয় না। কোনোভাবে একটি ওয়াজ করাতে পারাকেই সফলতার মানদ- মনে করা হচ্ছে। আমাদের সমাজে প্রচলিত সব ওয়াজ মাহফিলই কি শরিয়তের নিক্তিতে উত্তীর্ণ? আগত বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে পড়া উচিত।

Post a Comment

0 Comments