ওয়াজ-মাহফিল : ০২
______________ মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
ওয়াজের উদ্দেশ্য হেদায়াত নয়, অন্যকিছু!
ওয়াজের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের সংশোধন। সৎপথে পরিচালিত হওয়া। সিরাতে মুস্তাকিমের পথে চলা। গোমরাহি ও পথভ্রষ্টতা হতে ফিরে আসা। শরিয়তের বিধান জানা ও মানা। কিন্তু আমাদের দেশের ওয়াজ মাহফিলগুলো দেখলে মনে হয় ওয়াজের মূল লক্ষ্য এগুলো নয়। পার্থিব উদ্দেশ্যই মুখ্য। আয়োজকরা ওয়াজের পর কিছু টাকা উদ্বৃত্ত থাকলে, মানুষজনের সমাগম কাক্সিক্ষত বা এর চেয়েও বেশি হলেই সফল মনে করে। বলে বেড়ায়, এবার ওয়াজ মাহফিল করে আমরা বেশ লাভবান হয়েছি! এসব কি সফলতার মানদ-? হা, ওয়াজের পরে যদি এলাকার মানুষের সংশোধন হয়ে যায়, মসজিদে মুসুল্লির সংখ্যা বাড়ে, পর্দার প্রচলন শুরু হয় ইত্যাদি; তাহলে বোঝা যেত ওয়াজ মাহফিল দিয়ে লাভ হয়েছে। আয়োজক ও উদ্যোক্তাদের মাঝে ইখলাসের বিরাট ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। বৎসরে একটি ওয়াজ মাহফিল করা অনেকটা লোক দেখানো বিষয় হয়ে গেছে। তদ্রূপ বক্তার মাঝেও ইখলাসের বিরাট কমতি দেখা যায়। মানুষকে হাসাতে-কাঁদাতে পারলে কিংবা মানুষের প্রশংসা পেলেই মনে করে, ওয়াজ করে আমি সার্থক। উপরন্তু যারা শুনে তাদের ভেতরও ইখলাসের বড় অভাব থাকে। তারা শুধু আওয়াজ চায়, ওয়াজ নয়। কেবল সুরেলা কণ্ঠ খোঁজে, দলিলভিত্তিক সহিহ বয়ানের তালাশ করে না। জীবনের পাথেয় চায় না।
আয়োজক, ওয়ায়েজ ও শ্রোতা-- সবার মাঝেই ইখলাসের ঘাটতি থাকে; তাই ওয়াজ মাহফিলের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়াজ মাহফিলের লক্ষ্য থাকবে ইখলাস; তবে উপলক্ষ হিসেবে টাকা-পয়সা, প্রশংসা ইত্যাদি এসে গেলে কোনো সমস্যা নেই। অবস্থার পরিবর্তন দরকার। সব দীনি কাজে; বিশেষত ওয়াজ মাহফিলে ইখলাসের তীব্র প্রয়োজন।



0 Comments