nature beauty

header ads

যতিচিহ্ন |৩ | বানানচর্চা |Mohiuddin Kasemi


যতিচিহ্ন : ০৩
______________ মুহিউদ্দীন কাসেমী

ঊর্ধ্বকমা [ ]

     ইদানীং ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার অনেক কমে গেছে। একসময় লোপচিহ্ন হিসেবে ঊর্ধ্বকমার বহুল প্রয়োগ চালু ছিল। অর্থাৎ কোনো শব্দে যদি কোনো অক্ষর ইচ্ছে করে বাদ দেওয়া হত, তখন যে অক্ষরটা বাদ দেওয়া হল সেখানে ঊর্ধ্বকমা দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হত যে, এখানে একটা অক্ষর বাদ দেওয়া হয়েছে। যেমন : ’পরে [অর্থাৎ উপরে], তুলি’ [অর্থাৎ তুলিয়া], স্মরি' [অর্থাৎ স্মরিয়া]। এবং একই নিয়মে ক্রিয়াপদের চলিত রূপ লেখার সময় ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার হত। যেমন : ব’লে/বলে’ [অর্থাৎ বলিয়া], ক’রে/করে’ [অর্থাৎ করিয়া] ইত্যাদি।

ঊর্ধ্বকমা লোপচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়-- এ কারণেই অনেকে আরবি শব্দে আইন বর্ণের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বকমা দিয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে তা দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। কারণ, ঊর্ধ্বকমা দিয়ে কখনো আইনের উচ্চারণ আদায় করা যায় না; আর যারা আরবি শিক্ষিত তারা ঊর্ধ্বকমা না দিলেও বুঝবেন যে, এখানে ‘আইন’ বর্ণ আছে। ভাষাকে যত সহজ, প্রাঞ্জল ও গতিশীল করা যায় ততই ভালো। বাংলা একাডেমীও একই কথা বলে; একারণে তরুণ আলেমগণ বাংলা একাডেমী প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানকে সাধুবাদ জানিয়ে তা গ্রহণ করেছেন। সুতরাং লিখুন- জামিআ/জামিয়া, নোমান, আল-মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, দোয়া/দোআ, শরিয়ত, শরিয়াহ/শরিআহ, শোআবুল ইমান ইত্যাদি।
আমরা আরো সহজে বলতে পারি যে, বিদেশি কোনো শব্দে ঊর্ধ্বকমা ব্যবহার করা যাবে না। [তবে কিছু ইংরেজি শব্দে ঊর্ধ্বকমার প্রচলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন- ল’ Law]

বাংলা শব্দে আগে প্রচুর পরিমাণে ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার পরিলক্ষিত হলেও এখন এর ব্যবহার নিতান্তই কম। তবে যেখানে ঊর্ধ্বকমা না-দিলে অর্থ বুঝতে অসুবিধে হয়, সেখানে ঊর্ধ্বকমা দিতে হবে। তাছাড়া হাইফেনের বিকল্প হিসেবে ঊর্ধ্বকমা ব্যবহৃত হয়। যেমন :
■ যা তো, তোর মা’র কাছ থেকে দুটো [কিন্তু দু’টি] টাকা নিয়ে আয়।
■ এ্যাকসিডেন্টে তার পা’টা কেটে বাদ দিতে হয়েছে।

সালের বর্জিত সংখ্যা বোঝাতে গিয়ে ঊর্ধ্বকমার প্রয়োজন। যেমন :
ক. ২ শে ফেব্রুয়ারি ’৫২ অথবা ফেব্রুয়ারি ২১, ’৫২
খ. ২ শে মার্চ ’৭১ অথবা মার্চ ২৬, ’৭১
গ. ১৬ই ডিম্বের ’৭১ অথবা ডিসেম্বর ১৬, ’৭১
ঘ. ০৫ই জুন ’১৩ অথবা জুন ০৫, ’১৩ ইত্যাদি।

বি. দ্র. ১৯৫২ সালের জায়গায় ’৫২ কিংবা ১৯৭১ সালের জায়গায় ’৭১ কিংবা ২০১৩ সালের জায়গায় ’১৩ লেখা গেলেও পূর্ববর্তী কোনো শতাব্দীর ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বকমা দিয়ে লেখা চলবে না, পুরো শতাব্দীই লিখতে হবে। যেমন : ১৭৫৭ বা ১৮৫৭ বা ১৮৬৬ ইত্যাদি।
লক্ষণীয় যে, এক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার লোপচিহ্ন হিসেবেই।


   এই লেখাটি আমার বই বানানচর্চার | বইটি অনলাইন অডার দিতে নিচে ক্লিক করুন >

Post a Comment

0 Comments