nature beauty

header ads

যতিচিহ্ন |২ |বানানচর্চা | Mohiuddin Kasemi


যতিচিহ্ন : ০২
________________ মুহিউদ্দীন কাসেমী

কমা [, ]

যতিচিহ্নসমূহের মধ্যে কমা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। কেননা, কমার প্রয়োজন বেশি পড়ে। বাক্যটি বড় হলে একটু দম নিতে হয়, বক্তব্য একাধিক হলে থেমে-থেমে পড়তে হয়; মোটকথা অল্পক্ষণ বিরামের জন্য নিম্নলিখিত স্থানে কমার ব্যবহার করা হয় :
১. বাক্যে একই পদের একাধিক শব্দ লাগাতার বসলে এদের মাঝে কমা ব্যবহার করা হয়। যেমন :
বিশেষ্য [ইসিম] পদ : আবরার, আফ্ফান, আফিফ-- এরা সবাই আমার ছাত্র।
সর্বনাম [জমির ] পদ : সে, তুমি, আমি অর্থাৎ আমরা তিনজন মসজিদে যাব।
ক্রিয়া [ফেল] পদ : এলাম, নামায পড়লাম, আবার বাসে চড়লাম।

২. একজাতীয় একাধিক ছোট বাক্য পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। যেমন : উস্তাদ ক্লাসে প্রবেশ করলেন, পড়া শুনলেন, নতুন পড়া দিলেন, তারপর বেরিয়ে গেলেন।

৩. উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে; অর্থাৎ যে শব্দের শুরুতে উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়া হচ্ছে তার পূর্ববর্তী শব্দের শেষে কমা বসে। যেমন : হুুজুর সা. এর বাণী, ‘সর্বদা সত্য কথা বল’ তার ওপর ক’জনে আমল করে?

৪.  অন্যথাসূচক অব্যয় যেমন : নইলে, নচেৎ, নতুবা, নয়তো, না হলে, তাহলে, এগুলোর পূর্বের শব্দের শেষে কমা বসে। যেমন :
ক. কাল সবাইকে খাতা দেখাতে হবে, নইলে পিঠের চাম থাকবে না।
খ. যদি তোমার কথা না শুনি, তাহলে কী করবে?

৫. বড় সংখ্যাতে হাজার, লাখ ইত্যাদি বোঝাতে কমা ব্যবহার করলে বুঝতে সুবিধে হয়। যেমন :
৫,০৫০ [পাঁচ হাজার পঞ্চাশ]
২,০৩০,০০ [দুই লাখ তিন হাজার]

৬. তারিখ লিখতে কমা বসে। যেমন :
১০ই রমজান, ১৪৩৪।
১লা আষাঢ়, ১৪২১।
২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩।
তবে এক্ষেত্রে মাসের পর কমা ব্যবহার না করলেও তেমন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তারিখ ও সাল পাশাপাশি বসলে তারিখের পর কমা ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়ে, বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য। যেমন :
জানুয়ারি ১৩, ২০১৩ [অর্থাৎ ১৩ই জানুয়ারি, ২০১৩]।

বি.দ্র. তারিখ ও মাস লেখার পর সাল লেখা জরুরি না। যেমন : ১০ রমজান, ১৪৩৪ হিজরি; এখানে হিজরি না লেখলেও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, ‘রমজান’ হিজরি সালেরই একটি মাস; বঙ্গাব্দ বা অন্য কোনো সালের মাস না। ‘রমজান’ দ্বারাই বুঝা যাচ্ছে এটা হিজরি সাল; তাই কোনো বিভ্রান্তি নেই। অন্যান্য তারিখের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য; অর্থাৎ খ্রিস্টাব্দ বা বঙ্গাব্দ লেখা নিষ্প্রয়োজন।
অনেকেই খ্রিস্টাব্দের স্থানে ‘ইংরেজি’ লিখে থাকেন। যেমন : ২৬শে মার্চ, ১৯৭১ ইংরেজি। এখানে ইংরেজি লেখাটা ভুল; খ্রিস্টাব্দ লেখা কাম্য। হিজরি সালের ক্ষেত্রে তো আমরা ‘আরবি’ লিখি না; যদিও লোকমুখে খ্রিস্টাব্দকে ‘ইংরেজি’ এবং হিজরিকে ‘আরবি’ সাল বলার প্রবণতা দেখা যায়।
তারিখ লেখার ক্ষেত্রে ১লা, ২রা, ৩রা, ৪ঠা ইত্যাদি লা/রা/ঠা/ই/শে না লেখে শুধু তারিখ লেখা বাঞ্ছনীয়। যেমন : ১ শাওয়াল, ১৪৩৪ হিজরি। তবে উচ্চারণ করতে হবে পয়লা/দোসরা/তেসরা/চৌঠা ইত্যাদি। তবে আজকাল টেলিভিশনের সংবাদ পাঠকদেরকে তারিখ বলার সময় ‘এক জানুয়ারি’ এমনভাবে উচ্চারণ করতে শোনা যাচ্ছে। অথচ পহেলা জানুয়ারি বলা দরকার।

৭. বাক্যে যদি দূরান্বয় থাকে, তাহলে দূরান্বয়ঘটিত বাক্যাংশের আগে ও পরে কমা দেওয়া প্রয়োজন।
দূরান্বয়ের উদ্দেশ্য হল, যে অংশটাকে বাদ দিলে বাক্যের পূর্বাপরের অর্থ বুঝতে কোনো অসুবিধে হয় না। যেমন :
একটা কথা, জানি তা শুনতে তোমার খারাপ লাগবে, তোমার চাকরিটা কিন্তু হচ্ছে না।
এই বাক্যের মধ্যে বাঁকা অক্ষরে লেখা অংশটুকু দূরান্বয়। কেননা, তা বাদ দিলেও বাক্যের মূল মর্ম বুঝতে কোনো সমস্যা হয় না। এখানে বক্তার আসল উদ্দেশ্য হল তোমার যে চাকরিটা হচ্ছে না এই খবর দেওয়া। শ্রোতার খারাপ লাগবে, না-কি ভালো লাগবে-- এটা অতিরিক্ত একটা বিষয়।
‘দূরান্বয়’কে আমরা বাক্যের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় বাক্য বলতে পারি। আরবিতে যাকে জুমলায়ে মুতারেজা [الجملة المعترضة] বলে। তাই আমরা আরো সহজে বলতে পারি, জুমলায়ে মুতারেজার উভয় পাশে কমা ব্যবহার করা শ্রেয়। যেমন : ‘জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ তাআলা তোমাকে হেদায়াত দান করুন, কালিমা তিন প্রকার : ইসিম, ফেল ও হরফ।’
এখানে কালিমার প্রকার বর্ণনা করা মুখ্য উদ্দেশ্য; তাই ‘আল্লাহ তাআলা তোমাকে হেদায়াত দান করুন’ এটা জুমলায়ে মুতারেজা।
উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে কমার স্থানে ড্যাশ [ - ] ব্যবহার করারও প্রচলন আছে। এমনকি ড্যাশের প্রচলনটাই বেশি।


  এই লেখাটি আমার বই বানানচর্চার | বইটি অনলাইন অডার দিতে নিচে ক্লিক করুন >

Post a Comment

0 Comments