nature beauty

header ads

ফজরের ফরজের পর সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত পড়া মাকরুহ; | Mohiuddin Kasemi


ফজরের ফরজের পর সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত পড়া মাকরুহ; তবে...
________________________মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ফরজের আগে পড়তে হয়। কোনো কারণে যদি ফরজের আগে পড়তে না পারে তাহলে সূর্য উদয়ের অপেক্ষা করবে। সূর্য উদয় হওয়ার পর সুন্নত পড়তে পারবে। কিন্তু ফরজের পর সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত পড়া মাকরুহ। এ বিষয়ে অনেক হাদিস বিবৃত হয়েছে। একটি হাদিসের ভাষ্য এমন :
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ.
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১৯৫৭, ২/২০৬; সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৫৬৩)।
সাহাবায়ে কেরামের সাধারণ আমল ছিল ফরজের আগেই তাঁরা সুন্নত পড়তেন। হঠাৎ কারও কোনো কারণে ছুটে গেলে সূর্যোদয়ের পর পড়তেন। তাবেয়িদের আমলও তেমন ছিল। সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত পড়তেন না এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে। দুয়েকজন সাহাবির আমল দেখা যাক :
عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ؛ أَنَّهُ صَلَّى رَكْعَتَيَ الْفَجْرِ بَعْدَ مَا أَضْحَى.
অর্থ : তাবেয়ি নাফে থেকে বর্ণিত, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূর্য ভালোভাবে উদয় হওয়ার পর ফজরের দুই রাকাত সুন্নত পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ৩৭৫৩০)।
عَنِ الشَّعْبِيِّ ، قَالَ : إِذَا فَاتَتْهُ رَكْعَتَا الْفَجْرِ ، صَلاَهُمَا بَعْدَ صَلاَةِ الْفَجْرِ.
অর্থ : হযরত শাবী রহ. বলেন, তার ফজরের সুন্নত ছুটে গেলে ফজরের পরে অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পর পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ৩৭৫২৮)।
.
তবে এর বিপরীত কথাও একটি হাদিস দ্বারা জানা যায়। আগে হাদিসটি দেখব :
عَنْ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍوَ ، قَالَ : رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَصَلاَةُ الصُّبْحِ مَرَّتَيْنِ ؟ فَقَالَ الرَّجُلُ : إِنِّي لَمْ أَكُنْ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، فَصَلَّيْتُهُمَا الآنَ ، فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم.
অর্থ : হযরত কায়েস ইবনে আমর রা. বলেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের পর একব্যক্তিকে দেখলেন দুই রাকাত নামায পড়তেছে। তখন রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ফজরের নামায দুইবার পড়তেছ? ওই লোকটি উত্তর দিল, আমি ফজরের ফরজের পূর্বের দুই রাকাত পড়তে পারিনি তাই এখন পড়ছি; এ কথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে গেলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং- ১২৬৯; সুনানে দারাকাতনি, হাদিস নং- ১০)।
এ হাদিস দ্বারা সূর্যোদয়ের আগেও সুন্নত পড়ার অনুমতি পাওয়া যায়; আর আগের হাদিস দ্বারা স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার কথা জানলাম। এখন আমরা কী করব?
একটি বিষয় খেয়াল করুন, ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত পড়ার কোনো সাধারণ নিয়ম ছিল না। নিয়ম থাকলে তাঁকে রাসুল সা. জিজ্ঞেস করতেন না কোন্ নামায পড়েছ? স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে হওয়ার কারণেই প্রশ্ন করলেন। সুতরাং সাধারণ নিয়ম হল ফজরের আগেই সুন্নত পড়া উচিত। কোনো কারণে না পড়তে পারলে সূর্যোদয়ের পরে পড়বে। তবে ফজরের পর পড়ার তেমন সময় ও সুযোগ না থাকলে সূর্যোদয়ের আগেও পড়ার অবকাশ আছে। এই অবকাশ কাজে লাগিয়ে কেউ যদি প্রায়ই ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত পড়ে তাহলে এটা অবশ্যই মাকরুহ হবে। শরীয়তের মেজাজ এটা না। একটি হাদিসে এসেছে, খাবার শুরু করার পর ইকামত দিলে আগে খাবার শেষ করে পরে নামাযে অংশগ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এখন কেউ যদি প্রতিদিন বা প্রায়ই নামায শুরু করার আগে খেতে বসে; এরপর ইকামত শুরু হয়। এখন কেউ তাকে বলল, নামাযের সময় খাচ্ছেন কেন? সে এই হাদিস শুনিয়ে দিল! ‘আগে খাও পরে নামাযে যাও!!। এটা শরীয়তের মেজাজের খেলাফ। তদ্রূপ আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় একজন সাহাবির আমল দেখব, নাকি রাসুল সা. ও সমস্ত সাহাবির আমল দেখব? কয়জন সাহাবি ফজরের ফরজের পর সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত পড়তেন? রাসুল সা. জীবনে একবারও পড়েছেন? পড়েননি।
সুতরাং শরীয়তের মেজাজ, মাকাসিদ ও মানশা বুঝে আমল করা আবশ্যক। নইলে পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

Post a Comment

0 Comments