nature beauty

header ads

পিতা-মাতার ঝগড়ায় সন্তান কার পক্ষ নিবে?। Mohiuddin Kasemi


পিতা-মাতার ঝগড়ায় সন্তান কার পক্ষ নিবে?
প্রসঙ্গ আলেমসমাজের মতানৈক্য
________________মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী

মানুষ কাছাকাছি, পাশাপাশি বা একত্রে থাকলে মনোমালিন্য, বিবাদ ও ঝগড়া হতেই পারে। ঝগড়ায় আমরা কারও-না-কারও পক্ষাবলম্বন করি; বা চুপ থাকি। কিন্তু যখন আপনার পিতা-মাতা ঝগড়া লাগে তখন কার পক্ষ নিবেন? একজনের দুধের ঋণ শোধ করবেন, নাকি আরেকজনের ঘামঝরা শ্রমের বিনিময় দিবেন? মাতার পক্ষ নিলে পিতা নারাজ; পিতার পক্ষে গেলে মমতাময়ী মা কষ্ট পাবেন। এখন করবেনটা কী?
সুন্দর সমাধান হল, কারও পক্ষাবলম্বন না করে পিতা-মাতার মুরুব্বি পর্যায়ের কাউকে সংবাদ দেওয়া। তাদেরকে পিতা-মাতার ঝগড়ার বিষয়টি জানানো। তাঁরা কোনো সমাধান করবেন। হা, পিতা-মাতার কেউ যদি সরাসরি অন্যায়-অন্যায্য ও শরীয়তবিরোধী কাজ করতেই থাকে তখন ইনসাফের পক্ষ নেওয়া যাবে-- সেটি ভিন্ন বিষয়।

তদ্রূপ আপনার দুজন শিক্ষকের মাঝে ঝগড়া লেগেছে। এখন কার পক্ষ নেবেন? সিনিয়র কোনো শিক্ষককে জানানোই সুন্দর সমাধান।
একইভাবে আলেমসমাজের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতানৈক্য হয়। প্রাচীন কোনো বিষয়েও যেমন হতে পারে; সমকালীন কোনো বিষয় নিয়েও মতবিরোধ হওয়া সম্ভব। এখন আমরা সাধারণ মানুষ কার পক্ষ নেবো?
এখানেও মুরুব্বি বা সিনিয়র কাউকে জানানো উচিত। এমন কাউকে না পাওয়া গেলে নিজে নিজে কারও পক্ষাবলম্বন করা মোটেও উচিত নয়। বিশেষত যখন আমরা ওই বিষয়টির অন্তর্নিহিত মর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত না হবো। যে বিষয়ে আমি জানি না সে বিষয়ে কারও পক্ষাবলম্বন করা কি উচিত? আপনার বিবেক কী বলে? মনে করুন, একজন আলেম বলল, নামাযে রফউল ইয়াদাইন করার হাদিস বেশি সহিহ। আরেকজন বলল, না করার হাদিস বেশি সহিহ। এখন সাধারণ মানুষ যারা সহিহ-জঈফের সংজ্ঞা জানে না, হাদিস ও উসুলে হাদিসের কিতাব পড়েনি এমন লোকের জন্য কোনো এক পক্ষে যাওয়া উচিত? কোনো মীমাংসা সে দিতে পারবে? বিশেষত কোনো এক পক্ষকে গালিগালাজ করা, মন্দ ধারণা রাখা আরও জঘন্য।
কারও সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা ব্যতীত হুটহাট মন্তব্য করা অন্যায়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে :
وَلاَ تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ
অর্থ : যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই; এর পেছনে পড়ো না। (সূরা বনী ইসরাইল/ইসরা : ৩৬)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে :
حرمة القول أو العمل بدون علم لما يُقْضِي إليه ذلك من المفاسد ولأن الله تعالى سائل كل الجوارح ومستشهدها على صاحبها يوم القيامة
(আয়সারুত তাফাসীর : খ.৩, পৃ. ১৯৬) 
.
আলেমদেরও উচিত, অন্য কারও সম্পর্কে বা কারও মতামত সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য না করা। সাধারণ মানুষদের চুপ থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ, তারা চর্চিত ও আলোচিত বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তারা কেবল দর্শক। আজকাল কিছু মানুষের অভ্যাস হয়ে গেছে আলেমদের দোষ দেখা। নিজের ঈমান-আমলের খবর নাই কোন আলেম কী বলল, কার বিপক্ষে বলল-- এসব নিয়ে ব্যস্ত। জ্ঞানচর্চা নয়, মনে হয় আলেমদের ভুল ধরাই তাদের কাজ। সবাই যে একরকম, তা না। সাধারণ মানুষ মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে নাক গলানোর কোনো অধিকার রাখে না, বিষয়টি তাঁদের সবসময় মনে রাখা উচিত। উপরের আয়াতটি বারবার দেখুন।  
উল্লেখ্য, একাডেমিক পড়াশোনা করেও যদি কেউ কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে সেও অশিক্ষিতদের কাতারে।

Post a Comment

0 Comments