মহামানবদের অসিয়ত : ০২
মুহিউদ্দীন কাসেমী
============
হযরত উসমান রা. এর অসিয়ত
রাষ্ট্রদ্রোহীদের দ্বারা অবরুদ্ধ হওয়ার পর এই চিঠি লেখলেন, আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনিন উসমানের পক্ষ থেকে সমস্ত মুসলমানদের প্রতি ‘আসসালামু আলাইকুম, তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর স্মরণ করে দিচ্ছি যিনি তোমাদেরকে গোমরাহি থেকে বের করে ইসলামের নেয়ামত দান করছেন, রিজিকের প্রশস্ততা এবং দুশমনের ওপর বিজয় দান সহ সমস্ত নিয়ামত দ্বারা ঢেকে রাখছেন। ঐ সমস্ত কওমদের দেখে শিক্ষা গ্রহণ কর যারা নিজেদের মাঝে মতবিরোধ করে ধ্বংস হয়ে গেছে। তোমাদের মতবিরোধ তোমাদের একসাথে নামায পড়তেও দিবে না। দুশমনকে তোমাদের ওপর প্রধান্য করে দিবে। খুনাখুনি অপছন্দ করি। আল্লাহ এবং ইসলামের দোহাই দিয়ে বলতেছি, হক এবং ইনসাফের পক্ষাবলম্বন করো। আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করি এবং তোমাদের অন্তরকে কল্যাণের মাঝে স্থির রাখেন এবং পাপাচারিতা থেকে দূরে রাখেনÑ এই দোয়াও করি। এরপর সালামের মাধ্যমে চিঠি শেষ করলেন।
---
হযরত আলী রা. এর অসিয়ত
সমস্ত সন্তানদের উদ্দেশ্য করে বললেন. স্বতঃস্ফূর্ত ইবাদত করে ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করবে, সকলে মিলে আল্লাহর রশি মজবুত করে ধরবে, পরস্পরে মিলেমিশে থাকবে। কেননা, হুজুর সা. বলেছেন, পরস্পরে মিলেমিশে থাকা নামাজ রোযার চেয়েও উত্তম। আত্মীয়স্বজনদের খেয়াল রাখবে, এতিম ও প্রতিবেশীদের সর্বদা সাহায্য করবে। কুরআন, নামাজ, যাকাত, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, জিম্মিদের হক এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা থেকে গাফেল থেকো না। দোয়া কর! আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে হেদায়েত নসীব করেন এবং সর্বোতভাবে দুনিয়ায় লিপ্ত হয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন।
ইবনে মিলহামের আক্রমণের পর হুঁশ ফিরে আসলে লোকেরা আবেদন করল, হযরত হাসানকে বা অন্য কাউকে আপনার পর খলিফা নিযুক্ত করে দেন। তখন তিনি বললেন, তোমাদেরকে ওই জিনিসের ওপর ছেড়ে যাব যার ওপর রাসূল সা. ছেড়ে গেছেন। এরপর হত্যাকারীর ব্যাপারে বললেন, তাকে ভালো খাবার ভালো বিছানা দিবে এবং তার সম্মানের প্রতি খেয়াল রেখে তার সাথে কথাবার্তা বলবে। তোমরা কি চাও আল্লাহ এবং তার রাসুলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হোক?



0 Comments