মহামানবদের অসিয়ত : ৩
মুহিউদ্দীন কাসেমী
----------------------
ইমাম আবু হানিফা র. এর অসিয়ত
রাজা-বাদশা হতে দূরে থাকবে এবং তাদেরকে আগুনের মতো ভয় করবে। অতি প্রয়োজন ব্যতীত তাদের দরবারে যাবে না, তাহলে ইলমের সম্মান বজায় থাকবে। নির্জনে বাদশার ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে বলবে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সা. এর খেলাফ কাজ করো না। যদি সে না মানে তার জন্য দোয়া করবে, তার খারাবি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে এবং তাকে পুনঃপুন বুঝানোর চেষ্টা করবে। ইলমে দীন অর্জনকে প্রধান্য দাও। এরপর বৈধ পন্থায় মাল উপার্জন কর। সাধারণত সম্পদ ও জ্ঞান এক সাথে অর্জন হয় না। উলামাদের সাথে ইলমি বাহাস কর, অন্যদের সাথে নয়। বিনা প্রয়োজনে উস্তাদের সমালোচনা করো না। তাঁর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকো। ছাত্রদের নিজের সন্তান মনে করবে। মাসআলার উত্তর প্রয়োজনমাফিক দিবে। দীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও আকাঈদ সংক্রান্ত মাসআলা সাধারণ লোকদের সাথে আলোচনা করবে না। দুনিয়াবি বিষয়ে বেশি আলোচনা করবে না; করলে মানুষজন তোমাকে লোভী মনে করবে।
---
আব্দুল কাদির জিলানী রহ. এর অসিয়ত
প্রাণপ্রিয় ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে বেটা! তোমাকে অসিয়ত করতেছি, পিতামাতা এবং মাশায়েখে কেরামের হক আদায় করবে; এতে আল্লাহ রাজি হন। ধ্যানের সাথে কুরআন তেলাওয়াত করবে, আয়াতে মুহকামার ওপর আমল করবে, ইলমে ফিকহ পড়বে, মুর্খ সুফী হবে না, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা পোষণ করবে, বিদআত থেকে দূরে থাকবে, দাড়িবিহীন ছেলে, মহিলা, বিদআতী ও রাজা-বাদশাদের সাথে সম্পর্ক রাখবে না। কারণ এ সম্পর্ক তোমার দীকে বরবাদ করে দিবে। হালাল খানা খাবে; ইহা নেক কাজের চাবী। হালাল পোশাক পরলে ইমান ও ইবাদতে মজা পাবে। ভালো কাজে মুসলামদের জামাতকে ছাড়বে না। ইমাম ও নেতা হবে না এবং হুকুমতের তালাশ করবে না। কারণ তালাশকারী কামিয়াব হয় না। প্রশংসায় খুশি হবে না এবং নিন্দার কারণে চিন্তিত হবে না। মাখলুকের সাথে ভালো ব্যবহার করবে এবং বিনয়ী হবে। সমস্ত মাখলুককে নিজের থেকে উত্তম মনে করবে। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে না। মানুষের কাছে কিছুই চাইবে না।



0 Comments