nature beauty

header ads

জায়েয ও মুস্তাহাব, উত্তম ও অনুত্তম | মাসবুক ব্যক্তির নামাজ | Mohiuddin Kasemi


জায়েয ও মুস্তাহাব
উত্তম ও অনুত্তম
---------------------- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী

মাসবুক ব্যক্তি নিজের বাকি নামায পূর্ণ করার জন্যে কখন দাঁড়াবে? ইমাম সাহেব উভয় দিকে সালাম ফেরানোর পর মাসবুক ব্যক্তির জন্য দাঁড়ানো মুস্তাহাব। আর মাসবুক ব্যক্তি নিজের তাশাহহুদ পড়ার পর যখন মনে করবে যে ইমাম সাহেবের তাশাহহুদ পড়া শেষ তখন তার জন্য দাঁড়ানো জায়েয। তবে এক্ষেত্রে সে নিজের বাকি নামায অতি দ্রুত শেষ করে ইমামের আগে সালাম ফেরাতে পারবে না। ইমামের সাথে বা পরে সালাম ফেরালে নামায হয়ে যাবে।

আমল হয়ে থাকে মুস্তাহাবের ওপর; জায়েযের ওপর না। তদ্রূপ উত্তমের ওপর আমল হবে; অনুত্তমের ওপর না। যদিও অনুত্তমটি জায়েয ও বৈধ। প্রায় মাসআলার ক্ষেত্রে জায়েয ও মুস্তাহাব দুটো অপশন রয়েছে। আমল করার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব ও উত্তমটিই বেছে নিতে হবে। এটাই নিরাপদ ও তাকওয়ার নিকটবর্তী। বিশেষ কোনো প্রয়োজনে জায়েযের ওপর আমল করা যায়। যেসব ইমামগণ জায়েযের পক্ষ নিয়েছেন তারাও কোনোদিন জায়েযের ওপর আমল করেননি হয়তো। একটি উদাহরণ ভাবা যাক। কেবলার দিকে মুখ ও পিঠ দিয়ে পেশাব-পায়খানার করা জায়েয ও নাজায়েয হওয়ার ক্ষেত্রে আটটি মত রয়েছে। যেসব ইমাম জায়েয বলেছেন তারাও কি কেবলার দিকে মুখ করে পেশাব-পায়খানা করেছেন? জীবনে একবারও করেছেন? মোটেও না। তদ্রূপ দুয়েকজন ইমাম মত দিয়েছেন অজু ছাড়া কুরআন ধরা জায়েয। তাহলে তারা কি সারাজীবন অজু ছাড়া কুরআন ধরতেন? মানুষকে অজু ছাড়া কুরআন ধরতে উৎসাহিত করতেন? মোটেও না।
সুতরাং সব মাসআলার ক্ষেত্রে জায়েয নয় বরং মুস্তাহাব ও উত্তমের ওপর আমল হওয়া বাঞ্ছনীয়। ইমামগণ ইজতিহাদ করার কারণে ইখতেলাফ করেছেন। আমল করার জন্য না। নিজেরা কখনো সেসব জায়েযের ওপর আমল করেননি হয়তো। মাঝেমধ্যে করে থাকলে করতে পারেন। আরেকটি উদাহরণ দিই। অজুতে মাথা মাসাহ করার ক্ষেত্রে ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেছেন এক চুল বা দুই চুল পরিমাণ মাসাহ করলেই যথেষ্ট। ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন চার ভাগের এক ভাগ মাসাহ করলেই চলবে। তাহলে তারা কি নিজেদের এ মতের ওপর আমল করেছেন? নাকি পুরো মাথা মাসাহ করেছেন? পুরো মাথাই মাসাহ করেছেন। কারণ, সকলের মতে পুরো মাথা মাসাহ করা সুন্নত/মুস্তাহাব/উত্তম। প্রত্যেক মাসআলার ক্ষেত্রেই এ মূলনীতি প্রযোজ্য।

কুরবানির বড় জন্তুতে আকিকার বিষয়টিও এমন। কুরবানির সাথে আকিকা করা জায়েয বলে মত দিয়েছেন ফুকাহায়ে কেরাম। তারা মুস্তাহাব বলেননি। কারণ, সন্তান জন্মগ্রহণের সপ্তম দিনে আকিকা করা মুস্তাহাব ও সুন্নত। না পারলে পরে কোনোদিন করে নিবে। কুরবানির সময় সুযোগ এসেছে; তাই এসময় করা যায়। যদিও এখন আর মুস্তাহাব থাকবে না। কেবল জায়েয; এমনকি অনুত্তম বলা যাবে। তাই বলে এটিকে নাজায়েয বলার কোনো সুযোগ নেই।
রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরাম করেননি-- কেবল এ কথা বলে ফুকাহায়ে কেরামের ইজতিহাদকে অসম্মান করা পথভ্রষ্টতা ব্যতীত কিছু নয়। আমাদের জীবনঘনিষ্ঠ এক হাজার মাসআলা দেবো; যেগুলোর সমাধান কুরআন সুন্নাহতে নেই। সেগুলোর সমাধান আমাকে কুরআন-সুন্নাহ থেকে দিতে হবে। ইজতিহাদ ছাড়া পারবে কেউ? তদ্রূপ ৫০০ হাদিস দেবো যেগুলোর বিশ্লেষণ কোনো ইমামের ব্যাখ্যা ছাড়া নিজ থেকে দিবে। কারণ, হাদিস থাকতে আবার ব্যাখ্যা কিসের? আসলে কি কুরআন-সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে আল্লাহর তাওফিকের পর সাহাবায়ে কেরাম, তাবিঈন ও মুজতাহিদ ইমাম ও ফুকাহায়ে কেরামের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।

Post a Comment

1 Comments

  1. মাসবূক ব্যক্তি ইমামের তাশাহুদ শেষ হওয়ার পরপরই দাঁড়িয়ে যেতে পারবে (জায়েজ) এই মাসআলার রেফারেন্সটা চাই।

    ReplyDelete