চিত্র :- খালেদ হাসান
মানুষ তিন প্রকার
__________________ মুহিউদ্দীন কাসেমী
আপনার রোগ হয়েছে। সাধারণ রোগ। যেমন একটু একটু ঠাণ্ডা লেগেছে বা সামান্য কেটে গেছে। এর জন্য ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না। এমন সাধারণ চিকিৎসা মানুষমাত্রই পারে। কিন্তু একবার বেশ জটিল রোগ হল। এবার কোনো ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। নাকি চিকিৎসার বই কিনে নিজেই চিকিৎসা শুরু করবেন? ডাক্তারের কাছে গেলে উনি ব্যবস্থাপত্র লিখে দিবে; আপনি নিয়মমতো ওষুধ খাবেন। ডাক্তারও নিজে থেকে ওষুধ বানাতে পারে না। ওষুধ আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ। প্রত্যেক ডাক্তার চিকিৎসা আবিষ্কার করতে পারে না। ডাক্তাররা সাধারণত পূর্বেকার ও সমসাময়িক চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের লিখিত বইপুস্তক পড়ার পর প্র্যাক্টিস করে। সুতরাং মানুষ তিন প্রকার :
১. রোগী।
২. ডাক্তার ও চিকিৎসক।
৩. চিকিৎসাবিজ্ঞানী।
তদ্রূপ দীনি বিষয় ও শরীয়তের নির্দেশনা পালন করার ক্ষেত্রেও মানুষ তিন প্রকার : সাধারণ মুসলিম, সাধারণ আলেম-ওলামা ও মুজতাহিদ আলেম। সাধারণ মুসলিমের প্রতি নির্দেশ হল : طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ ‘দীনি জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।’ (আল-মুজামুল আওসাত : ২৪৬২) একজন মুসলিম হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দীনি ইলম হাসিল করা ফরজ। এটা সাধারণ ও নরমাল চিকিৎসার মতো। একটু জটিল রোগ হলে যেমন ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক তদ্রƒপ একটু জটিল সমস্যা হলে আলেমদের কাছে যেতে হবে। নিজে নিজে কুরআন হাদিস থেকে বের করা সম্ভব নয়। তাই তো আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেন : فَاسْئَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ ‘তোমরা না জানলে যারা জানে তাঁদের কাছে জিজ্ঞেস করো।’ (সূরা আম্বিয়া : ৭) আর ডাক্তার যেমন নিজেরা ওষুধ আবিষ্কার করতে পারে না, তেমনি সাধারণ আলেমগণও সরাসরি কুরআন-হাদিস থেকে বিধান আহরণ করতে অক্ষম। ডাক্তারগণ চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের থিওরি অনুযায়ী কাজ করেন; তদ্রƒপ সাধারণ আলেমগণও মুজতাহিদ আলেমদের শরণাপন্ন হন। তাঁদের সিদ্ধান্তগুলো পড়েন ও জানেন; এরপর সাধারণ মুসলমানদেরকে বলে দেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنْكُمْ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুসরণ করো; রাসুলের অনুসরণ করো। আর অনুসরণ করো তোমাদের উলুল আমর বা মুজতাহিদদের।’ (সূরা নিসা : ৫৯)
আগেকার যুগে ব্যক্তি মুজতাহিদের বেশ প্রাধান্য পেয়েছিল। বর্তমানে ব্যক্তি মুজতাহিদের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্মিলিত মুজতাহিদের গুরুত্ব বেশি। আজকের পৃথিবীতে ছয়টি ফিকহ বোর্ড বেশ প্রসিদ্ধ। তন্মধ্যে ফিকহ একাডেমি জেদ্দাহ ও ফিকহ একাডেমি ইন্ডিয়া সর্বাধিক খ্যাতিমান ও গ্রহণযোগ্য বোর্ড। তাদের সমাধানই পুরো পৃথিবী গ্রহণ করছে। এসব বোর্ডে ড. ইউসুফ কারযাবী, বিচারপতি তাকি উসমানি ও মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী সাহেবের মতো আলেমগণ কাজ করেন। তাঁদের ফতোয়া, বইপুস্তক ও মতামতই সারা দুনিয়া গ্রহণ করে। তাঁরা বর্তমানের উলুল আমর এ কথা নিশ্চিত বলা যায়।
এবার আপনিই ঠিক করুন আপনার স্তর কোনটি? আমাদের সমাজের কিছু মানুষ দ্বিতীয় স্তরেও না এক্কেবারে প্রথম স্তরে চলে যেতে চায়! সাধারণ রোগী হয়ে ডাক্তারের স্থানে অবতীর্ণ হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ না। আর চিকিৎসাবিজ্ঞানী হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।
.
আপনার মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে। প্রশ্নটি না জেনে কেবল উত্তর জেনে নিই। একটি হাদিসে রাসুল সা. ইরশাদ করেন : مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً ‘আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ দেননি, যে রোগের কোনো ওষুধ তিনি অবতরণ করাননি।’ (সহিহ বুখারি : ৫৩৫৪) অর্থাৎ প্রত্যেক রোগের ওষুধ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন; রোগও তিনি দিয়েছেন, ওষুধও তিনিই দিয়েছেন। এখন এই ওষুধ কি সবাই বের করতে পারবে? পারলে আপনার সব রোগের চিকিৎসা আমাকে দিয়ে করাবেন। কোনো টাকা পয়সা নেবো না। এ হাদিস অনুযায়ী প্রত্যেকেই চিকিৎসা করতে পারবে!



0 Comments