পাগড়ি পরা সুন্নত
- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
পুরুষের জন্যে পাগড়ি পরা সুন্নত। সুন্নত বলতে মুস্তাহাব উদ্দেশ্য। কেউ পাগড়ি মাথায় দিলে সওয়াব পাবে। কেউ না পরলে গোনাহগারও হবে না। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরাম পাগড়ি মাথায় দিতেন। সিরাত, ইতিহাস ও হাদিসের কিতাবে বিষয়টি সবিস্তারে উল্লেখ হয়েছে। উপরন্তু রাসুল সা. পাগড়ি বাঁধার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধও করেছেন। একটি হাদিসে এসেছে :
عَلَيْكُمْ بِالْعَمَائِمِ فَإِنَّهَا سِيمَا الْمَلَائِكَةِ
অর্থ : তোমরা পাগড়ি বাঁধো; কেননা তা ফেরেশতাদের প্রতীক। (শুআবুল ইমান, হাদিস নং- ৫৮৫১)
বদর যুদ্ধের দিন আল্লাহ তাআলা পাঁচ হাজার ফেরেশতা মুসলমানদের সাহায্যের জন্যে পাঠিয়েছিলেন। তাদের সবাই পাগড়িবাঁধা ছিল।
অন্য একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলিকে ডেকে পাগড়ি বেঁধে দিলেন। অতঃপর বললেন :
فاعتموا فإن العمامة سيما الإسلام وهى حاجز بين المسلمين والمشركين
অর্থ : পাগড়ি বাঁধো; কারণ, পাগড়ি ইসলামের নিদর্শন এবং কুফর ও ঈমানের মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী। (জামেউল আহাদিস, হাদিস নং-৩৮৩৫৪)
অনুবাদ ছাড়া আরো হাদিস দিচ্ছি :
১ : عن ابن عباس قال: لما عمم رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا بالسحاب قال له: "يا علي! العمائم تيجان العرب، والاحتباء حيطانها، وجلوس المؤمن في المسجد رباطه" ."الديلمي".
كنز العمال في سنن الأقوال والأفعال - ১৫ / ৪৮৩
: ২ إن فرق ما بيننا وبين المشركين العمائم على القلانس . كنز العمال في سنن الأقوال والأفعال - ১৫ / ৩০৬
. ৩ - ... عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثِيَابٍ مِنَ الصَّدَقَةِ فَقَسَمَهَا بَيْنَ أَصْحَابِهِ فَقَالَ: " اعْتَمُّوا خَالِفُوا عَلَى الْأُمَمِ قَبْلَكُمْ " شعب الإيمان - ৮ / ২৯৫
আরো অনেক হাদিস দেওয়া যাবে। হাদিসের কিছু কিছু কিতাবে পাগড়ি বিষয়ে পৃথক অনুচ্ছেদও রয়েছে। এর দ্বারাই বিষয়টির গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়।
পাগড়িকে আরবিতে الْعِمَامَةُ বলা হয়। আর الْعَمَائِمُ হচ্ছে এর বহুবচন। তবে পাগড়ির জন্যে الْعِصَابَةُ শব্দও ব্যবহৃত হয়। الْعَصَائِبُ হল এর বহুবচন। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে দুনো শব্দই ব্যবহার হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোনো বিধান জানতে হলে দুনো শব্দ লিখে সার্চ দিলে ফলাফল পাওয়া যাবে। একটি হাদিসে এসেছে :
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ أَنْ يَمْسَحُوا عَلَى الْعَصَائِبِ .
قَال الْخَطَّابِيُّ : الْعَصَائِبُ الْعَمَائِمُ سُمِّيَتْ عَصَائِبَ ؛ لأَنَّ الرَّأْسَ يُعْصَبُ بِهَا
দেখুন : سنن أبو داود مع شرح الخطابي ১ / ১০১ ، ১০২ .
---
কারো কারো মতে, পাগড়ি হচ্ছে রাসুল সা. এর স্বভাবগত সুন্নত (سنة عادية)। তবে মূলনীতি হল, কেউ যদি স্বভাবগত সুন্নতকে সুন্নতে নববী হিসেবে গ্রহণ করে, নিঃসন্দেহে সওয়াব পাবে। এতে কারো দ্বিমত নেই।
বর্তমানে বাংলাদেশে পাগড়ি না পরার মহামারি দেখা দিয়েছে। অনেক সুন্নতের মতো পাগড়ির সুন্নতও উপেক্ষিত। পাগড়িকে অনেকে আধুনিক পোশাক ও সাজসজ্জার অন্তরায় মনে করে। আবার অনেকে ঝামেলা ভাবে। কারো ইচ্ছে হলে পাগড়ি পরবে না; কিন্তু পাগড়িকে খারাপ জানা ও পাগড়ি নিয়ে উপহাস করা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গোনাহের কাজ। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা আলেম সমাজ এবং মুত্তাকী লোকেরাও পাগড়ি বাঁধছে না। এমন একটি সুপ্রমাণিত বিষয়কেও যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে কোন্ বিষয়ের ওপর আমল করব?
আমি নিজে পাগড়ি না পরলেও পাগড়িকে সুন্নত মনে করি। সময়-সুযোগ হলে আমিও পরি। পরতে উৎসাহ দিই।
পাগড়ি বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কুয়েত সরকারের অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে প্রণীত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফিকহি বিশ্বকোষ আলমাউসুআতুল ফিকহিয়্যার عِمَامَة ভুক্তি দেখা যেতে পারে। খ- নং- ৩০, পৃষ্ঠা- ৩০০।
- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
পুরুষের জন্যে পাগড়ি পরা সুন্নত। সুন্নত বলতে মুস্তাহাব উদ্দেশ্য। কেউ পাগড়ি মাথায় দিলে সওয়াব পাবে। কেউ না পরলে গোনাহগারও হবে না। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরাম পাগড়ি মাথায় দিতেন। সিরাত, ইতিহাস ও হাদিসের কিতাবে বিষয়টি সবিস্তারে উল্লেখ হয়েছে। উপরন্তু রাসুল সা. পাগড়ি বাঁধার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধও করেছেন। একটি হাদিসে এসেছে :
عَلَيْكُمْ بِالْعَمَائِمِ فَإِنَّهَا سِيمَا الْمَلَائِكَةِ
অর্থ : তোমরা পাগড়ি বাঁধো; কেননা তা ফেরেশতাদের প্রতীক। (শুআবুল ইমান, হাদিস নং- ৫৮৫১)
বদর যুদ্ধের দিন আল্লাহ তাআলা পাঁচ হাজার ফেরেশতা মুসলমানদের সাহায্যের জন্যে পাঠিয়েছিলেন। তাদের সবাই পাগড়িবাঁধা ছিল।
অন্য একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলিকে ডেকে পাগড়ি বেঁধে দিলেন। অতঃপর বললেন :
فاعتموا فإن العمامة سيما الإسلام وهى حاجز بين المسلمين والمشركين
অর্থ : পাগড়ি বাঁধো; কারণ, পাগড়ি ইসলামের নিদর্শন এবং কুফর ও ঈমানের মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী। (জামেউল আহাদিস, হাদিস নং-৩৮৩৫৪)
অনুবাদ ছাড়া আরো হাদিস দিচ্ছি :
১ : عن ابن عباس قال: لما عمم رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا بالسحاب قال له: "يا علي! العمائم تيجان العرب، والاحتباء حيطانها، وجلوس المؤمن في المسجد رباطه" ."الديلمي".
كنز العمال في سنن الأقوال والأفعال - ১৫ / ৪৮৩
: ২ إن فرق ما بيننا وبين المشركين العمائم على القلانس . كنز العمال في سنن الأقوال والأفعال - ১৫ / ৩০৬
. ৩ - ... عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثِيَابٍ مِنَ الصَّدَقَةِ فَقَسَمَهَا بَيْنَ أَصْحَابِهِ فَقَالَ: " اعْتَمُّوا خَالِفُوا عَلَى الْأُمَمِ قَبْلَكُمْ " شعب الإيمان - ৮ / ২৯৫
আরো অনেক হাদিস দেওয়া যাবে। হাদিসের কিছু কিছু কিতাবে পাগড়ি বিষয়ে পৃথক অনুচ্ছেদও রয়েছে। এর দ্বারাই বিষয়টির গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়।
পাগড়িকে আরবিতে الْعِمَامَةُ বলা হয়। আর الْعَمَائِمُ হচ্ছে এর বহুবচন। তবে পাগড়ির জন্যে الْعِصَابَةُ শব্দও ব্যবহৃত হয়। الْعَصَائِبُ হল এর বহুবচন। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে দুনো শব্দই ব্যবহার হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোনো বিধান জানতে হলে দুনো শব্দ লিখে সার্চ দিলে ফলাফল পাওয়া যাবে। একটি হাদিসে এসেছে :
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ أَنْ يَمْسَحُوا عَلَى الْعَصَائِبِ .
قَال الْخَطَّابِيُّ : الْعَصَائِبُ الْعَمَائِمُ سُمِّيَتْ عَصَائِبَ ؛ لأَنَّ الرَّأْسَ يُعْصَبُ بِهَا
দেখুন : سنن أبو داود مع شرح الخطابي ১ / ১০১ ، ১০২ .
---
কারো কারো মতে, পাগড়ি হচ্ছে রাসুল সা. এর স্বভাবগত সুন্নত (سنة عادية)। তবে মূলনীতি হল, কেউ যদি স্বভাবগত সুন্নতকে সুন্নতে নববী হিসেবে গ্রহণ করে, নিঃসন্দেহে সওয়াব পাবে। এতে কারো দ্বিমত নেই।
বর্তমানে বাংলাদেশে পাগড়ি না পরার মহামারি দেখা দিয়েছে। অনেক সুন্নতের মতো পাগড়ির সুন্নতও উপেক্ষিত। পাগড়িকে অনেকে আধুনিক পোশাক ও সাজসজ্জার অন্তরায় মনে করে। আবার অনেকে ঝামেলা ভাবে। কারো ইচ্ছে হলে পাগড়ি পরবে না; কিন্তু পাগড়িকে খারাপ জানা ও পাগড়ি নিয়ে উপহাস করা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গোনাহের কাজ। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা আলেম সমাজ এবং মুত্তাকী লোকেরাও পাগড়ি বাঁধছে না। এমন একটি সুপ্রমাণিত বিষয়কেও যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে কোন্ বিষয়ের ওপর আমল করব?
আমি নিজে পাগড়ি না পরলেও পাগড়িকে সুন্নত মনে করি। সময়-সুযোগ হলে আমিও পরি। পরতে উৎসাহ দিই।
পাগড়ি বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কুয়েত সরকারের অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে প্রণীত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফিকহি বিশ্বকোষ আলমাউসুআতুল ফিকহিয়্যার عِمَامَة ভুক্তি দেখা যেতে পারে। খ- নং- ৩০, পৃষ্ঠা- ৩০০।



0 Comments