জমি বন্ধক ও তার বিকল্প
- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
আপনার ছেলেকে বিদেশ পাঠাবেন। কয়েক লাখ টাকার দরকার। কেউ টাকা দেবে না লাভ ছাড়া। আপনার নগদ টাকা না থাকলেও জমিজমা আছে। টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক দিলেন। কয়েকবছর পর ছেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে পরিশোধ করে জমি ছুটাবেন। মাঝখানে এ কয় বছর ওই ঋণদাতা জমি ভোগ করবে। সারা দেশেই মনে হয় এ নিয়ম প্রচলিত রয়েছে।
এ পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ হারাম। সুদ। ঋণের বিনিময়ে নগদ টাকা নেওয়া যেমন সুদ; জমিন ভোগ করাও তেমনি সুদ। ঋণের পরিবর্তে শর্তারোপ করে কোনো রকম ফায়দা হাসিল করার নামই সুদ। রাসুল সা. স্পষ্ট ইরশাদ করেন :
كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةٍ فَهُوَ رِبًا
‘প্রত্যেক ওই ঋণ, যার বিনিময়ে উপকার হাসিল করা হয়, সেটাই সুদ।’ (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী : ১১২৫২)
গ্রামগঞ্জে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুদের এ প্রকারটি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা কিছু আলেম পর্যন্ত জানে না যে, এটা হারাম।
বিকল্প ব্যবস্থা :
ক. আপনার টাকা দরকার হলে জমিন বিক্রি করে দিবেন এই শর্তে যে, আপনার টাকা হওয়ার পর ওই দামে আবার কিনে নিবেন। এটাকে البيع بالوفاء বলা হয়। এ প্রকার বেচাকেনা জায়েয-নাজায়েয হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য থাকলেও বাস্তবতার আলোকে এটি বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। ধান্ধবাজি ও অসততার এ যুগে এটা সম্ভব না। জায়গা কেনার পর আর ফেরত দেওয়ার চিন্তাই করবে না।
খ. বন্ধক চুক্তি না হয়ে ইজারা-চুক্তি হবে। জমির মালিক টাকাওয়ালার কাছে জমি ভাড়ায় দিবে। অগ্রিম ভাড়া কিংবা সিকিউরিটি হিসেবে শর্তকৃত কয়েক লাখ টাকা গ্রহণ করবে। এর দ্বারা জমির মালিকের প্রয়োজন পূরণ হবে। মাসিক বা বাৎসরিক ভাড়া-চুক্তি হতে পারে। তবে ভাড়ার পরিমাণ উল্লেখ থাকা আবশ্যক। যদিও পরিমাণে কম হোক। এটাই সবচেয়ে সুন্দর বিকল্প। দোকান বা বাড়ি ভাড়া দেওয়ার মতো এটিও একটি ইজারা বা ভাড়া-চুক্তি। ব্যস শেষ।
আল্লাহ আমাদেরকে ভয়াবহ কবিরা গোনাহ সুদ হতে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
আপনার ছেলেকে বিদেশ পাঠাবেন। কয়েক লাখ টাকার দরকার। কেউ টাকা দেবে না লাভ ছাড়া। আপনার নগদ টাকা না থাকলেও জমিজমা আছে। টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক দিলেন। কয়েকবছর পর ছেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে পরিশোধ করে জমি ছুটাবেন। মাঝখানে এ কয় বছর ওই ঋণদাতা জমি ভোগ করবে। সারা দেশেই মনে হয় এ নিয়ম প্রচলিত রয়েছে।
এ পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ হারাম। সুদ। ঋণের বিনিময়ে নগদ টাকা নেওয়া যেমন সুদ; জমিন ভোগ করাও তেমনি সুদ। ঋণের পরিবর্তে শর্তারোপ করে কোনো রকম ফায়দা হাসিল করার নামই সুদ। রাসুল সা. স্পষ্ট ইরশাদ করেন :
كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةٍ فَهُوَ رِبًا
‘প্রত্যেক ওই ঋণ, যার বিনিময়ে উপকার হাসিল করা হয়, সেটাই সুদ।’ (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী : ১১২৫২)
গ্রামগঞ্জে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুদের এ প্রকারটি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা কিছু আলেম পর্যন্ত জানে না যে, এটা হারাম।
বিকল্প ব্যবস্থা :
ক. আপনার টাকা দরকার হলে জমিন বিক্রি করে দিবেন এই শর্তে যে, আপনার টাকা হওয়ার পর ওই দামে আবার কিনে নিবেন। এটাকে البيع بالوفاء বলা হয়। এ প্রকার বেচাকেনা জায়েয-নাজায়েয হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য থাকলেও বাস্তবতার আলোকে এটি বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। ধান্ধবাজি ও অসততার এ যুগে এটা সম্ভব না। জায়গা কেনার পর আর ফেরত দেওয়ার চিন্তাই করবে না।
খ. বন্ধক চুক্তি না হয়ে ইজারা-চুক্তি হবে। জমির মালিক টাকাওয়ালার কাছে জমি ভাড়ায় দিবে। অগ্রিম ভাড়া কিংবা সিকিউরিটি হিসেবে শর্তকৃত কয়েক লাখ টাকা গ্রহণ করবে। এর দ্বারা জমির মালিকের প্রয়োজন পূরণ হবে। মাসিক বা বাৎসরিক ভাড়া-চুক্তি হতে পারে। তবে ভাড়ার পরিমাণ উল্লেখ থাকা আবশ্যক। যদিও পরিমাণে কম হোক। এটাই সবচেয়ে সুন্দর বিকল্প। দোকান বা বাড়ি ভাড়া দেওয়ার মতো এটিও একটি ইজারা বা ভাড়া-চুক্তি। ব্যস শেষ।
আল্লাহ আমাদেরকে ভয়াবহ কবিরা গোনাহ সুদ হতে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।



0 Comments