ওয়াজ-মাহফিল : ০৮
____________________মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
গভীর রাত বা সারা রাত ওয়াজ মাহফিল করা
ওয়াজ-নসিহত করা ও শুনা একটি নফল কাজ। নফল কাজের কারণে শরিয়তের স্পষ্ট কোনো বিধান লঙ্ঘন হলে কিংবা বাধাগ্রস্ত হলে ওই নফল কাজটি আর নফল থাকে না, হারাম ও নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
অনেক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিল হয়। ফলে ফজরের জামাতে হাজির হতে কষ্ট হয়। অনেক মানুষ তো ফজরের জামাতে অংশগ্রহণই করতে পারে না। ফরজে বিঘœ ঘটিয়ে নফল নিয়ে ব্যস্ত থাকা কোনো ভালো কাজ নয়। আবার অনেক অঞ্চলে তো সারা রাত ওয়াজ হয়। এটাও ঠিক নয়। কারণ, ফজরের জামাতে শরিক হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। উপরন্তু দীর্ঘ সময় ওয়াজ হলে মানুষ মনে রাখতে পারে না। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই দীর্ঘ সময় ওয়াজ করতে না। সম্ভবত ঐতিহাকি বিদায় হজের ভাষণই ছিল রাসুলের সবচেয়ে দীর্ঘ ও প্রলম্বিত; কিন্তু তা-ও আমাদের ওয়াজের তুলনায় অনেক সংক্ষিপ্ত।
ফজরের নামাযের জামাতে শরিক হতে যেন কোনো সমস্যা না হয় এ কারণে রাসুল সা. এশার নামাযের পর কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন। একটি হাদিসে এসেছে :
عَنْ أَبِي بَرْزَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَلَا يُحِبُّ الْحَدِيثَ بَعْدَهَا
অর্থ : হযরত আবু বারযা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামাযের পূর্বে ঘুমানো এবং পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন। (সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং- ১৬৮)
এটা ঠিক যে, ইশার নামাযের পর কথা বলা হারাম না। হাদিসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাতে ঘুমুতে বিলম্ব হলে কিয়ামুল লাইল, রাতের ইবাদত ও তাহাজ্জুদ এবং সর্বশেষে ফজরের জামাতে শরিক হতে যেন কোনো সমস্যা না হয়। তাই ইশার পর দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে বলা হয়েছে। হা, ইলম তলব করা, কিতাব রচনা করা বা অন্য কোনো জরুরি কাজ থাকলে দেরিতে ঘুমানো নাজায়েয হবে না বটে; তবে ফজরের নামায নিশ্চিত হতে হবে। মোল্লা আলী কারী রহ. মিশকাতের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ মিরকাতে বলেন :
وكان أي النبي يكره النوم قبلها لخوف الفوت والحديث بعدها أي التحدث بكلام الدنيا ليكون ختم عمله على عبادة وآخره ذكر الله فإن النوم أخو الموت وفي شرح السنة أكثرهم على كراهة النوم قبل العشاء ورخص بعضهم وكان ابن عمر يرقد قبلها وبعضهم رخص في رمضان قال النووي إذا غلبه النوم لم يكره له إذا لم يخف فوات الوقت وأما الحديث فقد كرهه جماعة منهم سعيد بن المسيب قال لأن أنام عن العشاء أحب إلي من اللغو بعدها ورخص بعضهم التحدث في العلم وفيما لا بد منه من الحوائج ومع الأهل والضيف.
(খ. ৩, পৃ. ৪৮)



1 Comments
ki
ReplyDelete