nature beauty

header ads

ওয়াজ - মাহফিল | পর্ব:৭ | Mohiuddin Kasemi


ওয়াজ-মাহফিল : ০৭
________________মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী

কৃত্রিম সুর ও বাচনভঙ্গি

আজকাল ফেতনা-ফাসাদের যুগ। সঠিক ইসলাম দুনিয়া থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসলামের নামে অনেককিছু সমাজে প্রচলিত রয়েছে কিন্তু বাস্তবে ইসলামের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ওয়াজ-নসিহত করা সওয়াবের কাজ। ভালো জিনিস। কিন্তু আজ ওয়াজ নয়, আওয়াজই মুখ্য। সার নয়, সুরই মূল লক্ষ্য। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও সালফে সালিহীনের কেউই সুরেলা কণ্ঠে ওয়াজ করেননি। কৃত্রিম সুর ও বাচনভঙ্গি পরিহার করাই কাম্য।
ইমাম গাযালি রহ. এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করার পর বলেন :
فهذه من نزعات الشيطان فإن في الصدق مندوحة عن الكذب وفيما ذكر الله تعالى ورسوله صلى الله عليه و سلم غنية عن الاختراع في الوعظ كيف وقد كره تكلف السجع وعد ذلك من التصنع.
(এহয়াউ উলমুদ্দীন : খ. ১, পৃ. ২৫)

ইমাম নববিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য হল, সুর করে কথা বলা, সুর করে ওয়াজ করা, ইচ্ছাকৃতভাবে ছন্দোবদ্ধ ভাষায় কথা বলা মাকরুহ। তিনি বলেন :
فصل : يكره التقعير في الكلام بالتشدق وتكلف السجع والفصاحة والتصنع بالمقدمات التي يعتادها المتفاصحون وزخارف القول ، فكل ذلك من التكلف المذموم ، وكذلك تكلف السجع ، وكذلك التحري في دقائق الإعراب ووحشي اللغة في حال مخاطبة العوام ، بل ينبغي أن يقصد في مخاطبته لفظا يفهمه صاحبه فهما جليا ولا يستثقله.(আল-আযকার : পৃ. ৩৭২)

ইমাম নববি রহ. নিজের কথার সমর্থনে কয়েকটি হাদিস পেশ করেছেন। দুয়েকটি নিম্নে দেওয়া হল :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَبْغَضُ الْبَلِيغَ مِنْ الرِّجَالِ الَّذِي يَتَخَلَّلُ بِلِسَانِهِ كَمَا تَتَخَلَّلُ الْبَقَرَةُ.
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তাআলা এমন বাগবিদগ্ধ ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন, যে কথা বলার সময় নিজের জিহ্বা দ্বারা কথা চর্বণ করে; যেমন গরু জিহ্বা দ্বারা ঘাস চর্বণ করে। (সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং- ২৮৫৩, অধ্যায় : باب ما جاء في الفصاحة والبيان)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم : هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ. قَالَهَا ثَلاَثًا.
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : বাকচতুর লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ৬৯৫৫)
সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, সালাফ, আইম্মায়ে কেরাম এবং পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম কেউ ওয়াজ-নসিহত করার ক্ষেত্রে কৃত্রিম সুর ব্যবহার করেনি। সাদামাটাভাবে কথা বলতেন। তাঁদের ইখলাস ও নিষ্ঠা ছিল পাহাড়ের চেয়েও বেশি। আমাদেরকেও তাঁদের অনুসরণ করা দরকার।

Post a Comment

0 Comments