nature beauty

header ads

জপমালা, কঙ্কর, পাথর, বীচি, ডিজিটাল জপমালা ইত্যাদি দ্বারা তাসবীহ পড়া বিদআত?। Mohiuddin Kasemi


জপমালা, কঙ্কর, পাথর, বীচি, ডিজিটাল জপমালা ইত্যাদি দ্বারা তাসবীহ পড়া বিদআত? একটি দালিলিক পর্যালোচনা
--------------------------------- মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী

একজনের হাতে তাসবীহ দেখে আরেক ভাই বলে উঠল ‘বিদআত’! কত সহজে একটি বিষয়কে বিদআত প্রতিপন্ন করল! আসলেই কি বিষয়টি বিদআত? 
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দ্বারাই তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর ইত্যাদি গণনা করতেন।
رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- - يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ. قَالَ ابْنُ قُدَامَةَ - بِيَمِينِهِ.
অর্থ : আমি রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডান হাত দ্বারা তাসবীহ গণনা করতে দেখেছি। [সুনানে আবী দাউদ, হাদিস নং- ১০৫, অধ্যায় : باب التَّسْبِيحِ بِالْحَصَى]
রাসুলে কারিম সা. এবং সাহাবায়ে কেরাম আঙুল দ্বারা গণনা করে তাসবীহ পড়তেন মর্মে অনেক বর্ণনা রয়েছে। তিরমিযি, সহিহ ইবনে হিব্বান, আবু দাউদ, নাসায়ি, বায়হাকিসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে হাদিসগুলো আছে।
কিন্তু রাসুল সা. নিজে জপমালা, কঙ্কর ইতাদি দ্বারা তাসবীহ পড়েছেন মর্মে কোনো হাদিস আছে বলে আমার জানা নেই। তবে একটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, একবার তিনি এক মহিলার কাছে গিয়ে দেখেন সে খেজুরের বীচি অথবা কঙ্কর দ্বারা তাসবীহ পাঠ করছে। তখন রাসুল সা. তাকে নিষেধ করার পরিবর্তে বললেন, তোমাকে এর থেকে উত্তম অথবা সহজ পদ্ধতি বলে দিব না?! তুমি এই দোয়াগুলো পড়।
আমাদের দেখার বিষয় হল, এ হাদিসে ওই মহিলাকে কঙ্কর দ্বারা তাসবীহ গণনা করে তাসবীহ পাঠ করতে রাসুল সা. নিষেধ করেননি। হাদিসটির আরবি পাঠ নিচে দেওয়া হল :
عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِى وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهَا أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ ্র أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ গ্ধ. فَقَالَ ্র سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِى السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِى الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ. وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مِثْلُ ذَلِكَ. وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ গ্ধ.
[সুনানে আবী দাউদ, হাদিস নং- ১৫০২, অধ্যায় : باب التَّسْبِيحِ بِالْحَصَى]

উল্লেখ, এ হাদিসটিকে শায়েখ নাসিরউদ্দিন আলবানী রহ. জঈফ বললেও ইমাম হাকেম সহিহুল ইসনাদ বলেছেন। সুতরাং আলবানী সাহেবের কথায় ধোঁকা খাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া এ হাদিসটি আরো কয়েকটি কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন : মুসনাদে বাযযার : খ. ৪, পৃ. ৩৯; মুসনাদে আবী ইয়ালা : খ. ২, পৃ. ৬৬; হাকেম : খ. ১, পৃ. ৭৩২।
উপরন্তু এ হাদিসটির ভিন্ন সনদ রয়েছে। সুতরাং এ হাদিস দলিলযোগ্য।
এ হাদিস দ্বারাই আল্লামা মুবারকপুরি রহ. দলিল গ্রহণ করে বলেছেন, জপমালা, কঙ্কর দিয়ে তাসবীহ পাঠ করা জায়েয। তিনি বলেন :
من هذه الحيثية أولى من السبحة والحصى ويدل على جواز عد التسبيح بالنوى والحصى حديث سعد بن أبي وقاص
[তুহফাতুল আহওয়াযী : খ. ৯, পৃ. ৩২২]

এছাড়াও কয়েকজন সাহাবি ও তাবেয়িও এর ওপর আমল করতেন। তাঁরা জপমালা, কঙ্কর ইত্যাদি দ্বারা তাসবীহ/তাহলীল গণনা করে পাঠ করতেন। আল্লামা মুবারপুরি রহ. উপর্যুক্ত হাদিসের অধীনে অনেকগুলো দলিল পেশ করেছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি :
* عن أبي صفية مولى النبي صلى الله عليه و سلم أنه كان يوضع له نطع ويجاء بزنبيل فيه حصى فيسبح به إلى نصف النهار ثم يرفع فإذا صلى أتى به فيسبح حتى يمسح.
* أخرجه الإمام أحمد في الزهد وأخرج بن سعد عن حكيم بن الديلمي أن سعد بن أبي وقاص كان يسبح بالحصى.
* أخرج عبد الله بن الإمام أحمد في زوائد الزهد عن أبي هريرة أنه كان له خيط فيه ألف عقدة فلا ينام حتى يسبح.
* أخرج أحمد في الزهد عن القاسم بن عبد الرحمن قال لأبي الدرداء نوى عن العجوة في كيس فكان إذا صلى الغداة أخرجها واحدة يسبح بهن حتى ينفذهن.
* وأخرج بن سعد عن أبي هريرة أنه كان يسبح بالنوى المجموع.

ফুকাহায়ে কেরাম এ বিষয়ে কিছুটা মতানৈক্য করলেও জায়েযের মতই অধিক সঠিক। প্রদর্শনেচ্ছা ও লৌকিকতা থাকার আশঙ্কায় মূলত মাকরুহ বলা হয়েছে। বাস্তবেই যদি কারো অন্তরে লৌকিকতা থাকে তাহলে তো আঙুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করাও নাজায়েয হয়ে যাবে। লৌকিকতা কেবল জপমালার সঙ্গে নির্দিষ্ট নয়। ফাতাওয়া আলমগিরিতে রয়েছে :
قال في الْمُسْتَصْفَى لَا يُكْرَهُ خَارِجَ الصَّلَاةِ في الصَّحِيحِ هَكَذَا في التَّبْيِينِ.
[খ. ১, পৃ. ১০৬]

তাবয়ীনুল হাকায়িকে [খ.১, পৃ. ১৬৬] আছে :
وَاخْتَلَفُوا في عَدِّ التَّسْبِيحِ خَارِجَ الصَّلَاةِ فَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ لِيَكُونَ أَبْعَدَ من الرِّيَاءِ وَأَقْرَبَ من الْإِقْرَارِ بِالتَّقْصِيرِ وَعَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي اللَّهُ عنه أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا يَفْعَلُ ذلك فقال له عُدَّ ذُنُوبَك لِتَسْتَغْفِرَ منها وقال في الْمُسْتَصْفَى لَا يُكْرَهُ خَارِجَ الصَّلَاةِ في الصَّحِيحِ.

মোটকথা হচ্ছে, লৌকিকতা না থাকলে জপমালা, কঙ্কর কিংবা ডিজিটাল জপমালা ইত্যাদি দ্বারা তাসবীহ/তাহলীল গণনা করে পাঠ করা জায়েয। এবং এটি একটি পদ্ধতি মাত্র। মনে রাখার সহজ উপায়। বিভিন্ন হাদিসে অনেক তাসবীহ ৩৩/৩৪/১০০ ইত্যাদি সংখ্যায় গণনা করতে বলা হয়েছে। তাই মনে রাখার সুবিধার্থে আঙুল দ্বারা গণনা করার কথা বলা হয়েছে হাদিসে। এখন কঙ্কর ইত্যাদি দ্বারা গণনা করলে নাজায়েয হবে না; এখানেও তো আঙুল ও হাত ব্যবহৃত হচ্ছেই। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িগণ এভাবে তাসবীহ পাঠ করেছেন। ফুকাহায়ে কেরামও সমর্থন দিয়েছেন। তাই এ পদ্ধতিকে বিদআত ও নাজায়েয বলার কোনো সুযোগ নেই। যদিও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এবং কিছু ফকীহ বিদআত বলেছেন। তাঁরা মূলত লৌকিকতার আশঙ্কার কারণেই এমন অভিমত দিয়েছেন। উল্লেখ্য প্রত্যেক ইবাদতই লৌকিকতামুক্ত হওয়া আবশ্যক।

Post a Comment

0 Comments