ওয়াজ মাহফিল : ১০ (সমাপ্ত)
___________________মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
নাজায়েয কালেকশন
কারো পূর্ণ সম্মতি ও সন্তুষ্টি ছাড়া তার সম্পদ নেওয়া যাবে না। পরিস্থিতির শিকার বানিয়ে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়া হারাম; ছিনতাই ও লুটতরাজের মতোই নাজায়েয। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ
অর্থ : কারো সন্তুষ্টি ছাড়া তার সম্পদ নেওয়া হালাল হবে না। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং- ২০৬৯৫)
ওয়াজ মাহফিল বাস্তবায়নের জন্যে কালেকশনের বেলায় কি এ মূলনীতি সামনে রাখা হয়? অনেক ক্ষেত্রেই রাখা হয় না। মাহফিলে কালেকশনের বেলায় নাম ধরে ধরে মারহাবা দেওয়া হয়। সকলের সামনে দাঁড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিতে হয়। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বেশি টাকা লিখিয়ে দিয়ে আসে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে হল কিভাবে? অনেকদিন যাওয়ার পরও সে ওই টাকা দেয় না, দিতে সম্মত হয় না। অনেকে তো একবারেই দেয় না। এসব প্রমাণ করে, সে পূর্ণ সম্মতি ও ইচ্ছায় নাম লেখায়নি। শুধু ওয়াজ মাহফিল নয়, মসজিদ-মাদরাসা যে কোনো দীনি ও দুনিয়াবি কাজের ক্ষেত্রে এ মূলনীতি সামনে রাখা আবশ্যক। হযরত থানবী রহ. এভাবে কালেকশন করাকে নাজায়েয আখ্যায়িত করেছেন।
তদ্রƒপ ওয়াজ-মাহফিল বাস্তবায়নের উদ্দেশে অনেকের কাছ থেকে পূর্ণ সম্মতি ব্যতীত টাকা নেওয়া হয়। দোকানে-দোকানে, রাস্তাঘাটে, গাড়িতে-বাসে কালেকশন হয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষজন বিরক্ত হয়। কতবার টাকা দেবে?! দিনে কয়েকটি মাহফিলের টাকা দিতে হয়। অনেক জায়গায় হাইওয়ে রোডে গাড়ি থামিয়ে কালেকশন হয়। এর দ্বারা মানুষের কষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ইসলামের প্রতি খারাপ ধারণা হয় যে, ইসলাম ভিক্ষার ধর্ম। দীনের মর্যাদাকে খাটো করা হয়।
মোটকথা, ওয়াজ মাহফিলের কালেকশন শরীয়তের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মাহফিল বাস্তবায়নের কালেকশন এবং মাহফিলে নাম ধরে ধরে কালেকশন দুটোই অসমীচীন ও সন্দেহপূর্ণ। পরিপূর্ণ বৈধ বলা যাচ্ছে না। একটি ভালো কাজে সন্দেহমুক্ত থাকা জরুরি নয়?



0 Comments